দিনাজপুরে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:১৮

দিনাজপুরে ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতিকে বাস পোড়ানো মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার করার পর পরিবারসহ গ্রামবাসী তাকে ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের গুলিতে সভাপতির পুত্র নিহত হয়েছেন। সভাপতির স্ত্রী ও অপর পুত্র আহত হয়েছেন। গ্রামবাসীর হামলায় ৪ পুলিশ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ১৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ নম্বর পুনট্টি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তুলশীপুর গ্রামে নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হবিবর রহমানকে (৫৫) গ্রেফতার করার জন্য ২ এএসআইসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য যান। হবিবরকে গ্রেফতার করে থানায় আনার সময় তার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম, ২ পুত্র রেজওয়ান (৩৫) ও হায়দার আলী (২৫) বাধা দেন। তারা এসময় পুলিশের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে আটক হবিবরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ আরো ৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে রেজওয়ান ঘটনাস্থলে নিহত হন। তার মা আম্বিয়া ও ভাই হায়দার সংঘর্ষে আহত হন। অভিযান পরিচালনাকারী ৬ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২ জন হামলার সময় সরে যান। বাকি ৪ পুলিশ সদস্যের সঙ্গে থাকা গুলি শেষ হলে গ্রামবাসী ঘেরাও করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র বটি, হাসুয়া ও দা দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান, এএসআই রবিউল ইসলাম এবং কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুল্লাহ।

দিনাজপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হবিবরকে পুলিশ চিরিরবন্দর থানায় নিয়ে যায়। চিরিরবন্দর থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার সময় আত্মরক্ষায় ৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। এ সময় রেজওয়ান নিহত হয়েছে বলে ওসি জানান।