দেশের বেশিরভাগ শিল্প এলাকাতেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ (৩৩ কেভি ভোল্টেজ) নেই। সাধারণ ফিডার থেকে শিল্প কারখানাগুলোতে বিদ্যুতের লাইন দেয়া হয়েছে। যেখান থেকে আবাসিক খাতেও বিদ্যুতের লাইন দেয়া হয়েছে। তাই শিল্প খাত ন্যায্য বিদ্যুত বঞ্চিত হচ্ছে।
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়েজিত ‘বিদ্যুত্ ব্যবস্থার উন্নয়ন: ভোক্তা স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন সঞ্চালন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
ঢাকা চেম্বারের সম্মেলনে কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, ডিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সাবেক সভাপতি রাশেদ মাকসুদ এবং মতিউর রহমান সহ আরও অনেকে। সেমিনারে পৃথকভাবে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম আলমগীর কবির, বিপিডিবি’র প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান এবং পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী অরুণ কুমার সাহা।
প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে শুধু ইপিজেডগুলোতেই চাহিদা অনুযায়ী ৩৩ কেভি ভোল্টেজের বিদ্যুত্ সরবরাহ রয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ শিল্প এলাকাতেই এ বিদ্যুত্ নেই। আবাসিক ও শিল্প এলকা এক জায়গাতে হওয়ায় শিল্প কারখানার জন্য এ বিদ্যু পৃথকভাবে দেয়াও খুব কঠিন কাজ। তাই পৃথকভাবে শিল্প এলাকা করতে হবে।
এদিকে বর্ধিষ্ণু জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা ৯ থেকে ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্ধিত বিদ্যুত্ উত্পাদনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- প্রাথমিক জ্বালানির সহজপ্রাপ্তি, প্রজেক্টের অর্থায়ন, সময়মতো প্লান্ট চালু করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা।
ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কনোকো-ফিলিপসকে ৩টি ব্লক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে গ্যাস পেলেও তা ব্যবহারযোগ্য করতে ১০ বছর লেগে যাবে। তার আগে কোথাও গ্যাস না পেলে ২/৩ বছরের পর থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমতে থাকবে। তাই সোলার এনার্জী ব্যবহারের মাধ্যমে রান্না পদ্ধতি প্রবর্তনের বিজ্ঞানীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় নতুন করে কোনো গিজারের সংযোগ দেওয়া হবে না। সোলার দিয়ে গিজার চালাতে হবে।
ড. তৌফিক আরও বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়া হবে। আর ২০৪১ সালে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সরকার বলছে বিদ্যুত্ উত্পাদন বেড়েছে। কিন্তু শিল্প কারখানাগুলো এখনও প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্ পাচ্ছে না। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে অনেক কারখানাতেই ২/১ শিফট কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতও শিল্পে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ প্রেক্ষিতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর পরামর্শ দেন বক্তারা। সভাপতির বক্তব্যে হোসেন খালেদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুত ও সৌর বিদ্যুতের দিকে নজর বাড়াতে হবে। বড় বড় বিদ্যুত প্লান্ট করার উপর জোর দিতে হবে। পাওয়ার প্লান্টে ব্যাংক রেটে অর্থায়নের সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া গ্যাসের সরবরাহ স্বল্পতার কারণে ভুর্তকি দিয়ে আবাসন খাতে এলপি গ্যাস দেয়ার পরামর্শ দেন ডিসিসিআই সভাপতি।
