অভিজিৎ হত্যা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৫, ০৩:০৪

বই মেলা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যেই মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব-ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ তারা এ প্রশ্ন তোলেন।
এ সময় হত্যাকােণ্ডর প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার প্রতিবাদে আগামী ৬ মার্চ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এতে দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া, আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অভিজিৎ রায়ের মরদেহ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অভিজিৎ ও তার স্ত্রী বন্যার অপরাধ হল তারা স্বাধীন বাংলাদেশ, ভাষা আন্দোলন ও প্রগতির পক্ষে। যারা এসবের বিপক্ষে তারাই এ হামলা চালিয়েছে। এসময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন যেমন দেশ চেয়েছিলাম, তেমন বাংলাদেশ পাইনি। জনগণ দাঁড়িয়ে আছে, পুলিশের অবস্থান আছে অথচ সেদিন হত্যাকাণ্ডের সময় কেউ এগিয়ে যায়নি। এর প্রধান কারণ আমরা ঐক্যবদ্ধ নই। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সেজন্যই আমরা তাদের নির্বাচিত করেছি। অথচ তাদের এ ব্যর্থতা সারা বাংলাদেশকে টালমাটাল করে দিয়েছে।  
জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে প্রগতিশীল ও মুক্তমনা মানুষ অভিজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। এর পাশেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি কখনই মেনে নেয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা বারে বারে ঘটবে আর আমরা তা সহ্য করবো তা হতে পারে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারের উপরেই বর্তায়। তিনি অবিলম্বে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, নাট্যশিল্পী আফরোজা বানু, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য রফিকুল ইসলাম, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান, নাট্য ব্যাক্তিত্ব মামনুর রশীদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর প্রমুখ।