বগুড়ায় সংসদ সদস্য ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ ৬ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবন ও একজন পরিবহন মালিক সমিতির নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে হাতবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দুপুরে শহরের জলেশ্বরীতলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোয়ার্টারখ্যাত ওই আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে শহরের মালতিনগর বকশিবাজার এলাকায় বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) এলাকার জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দলের (জাসদ) সংসদ সদস্য রেজাউল করিম তানসেনের বাসা লক্ষ্য করে পরপর ৩/৪টি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আশেপাশের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর কিছুক্ষণ পর শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা পরপর দুটি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করলে তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ আহত হয়নি বলে তিনি জানান।
এছাড়াও দুপুর ১টার দিকে শহরতলীর চারমাথা গোদারপাড়া এলাকায় অবস্থিত বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক ও শাহ ফতেহ আলী পরিবহরে পরিচালক আমিনুল ইসলামের বাসা লক্ষ্য ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। আমিনুল ইসরামের পিতা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডল ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলেও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার এসব বিস্ফোরণের কথা অস্বীকার করে জানান , এধরণের কোন ঘটনা তার জানা নেই ।
এদিকে বিরোধী দলের চীফ হুইপের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তার সমর্থকরা।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসব ঘটনা স্বীকার না করলেও জেলার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম , হঠাত্ করেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান, মহাসড়কে নজরদারি কারণে গত কয়েকদিন পরিবহনে অগ্নি সংযোগ বা পেট্রোল বোমা নিক্ষপের ঘটনা ঘটেনি। হরতাল অবরোধের কোন প্রভাব নেই বগুড়া শহরে , পুলিশি নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে ।
