নৈশ কোচ বন্ধ থাকায় লোকসানে বাস মালিকরা

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৫, ০০:০২

নৈশকোচ বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন মালিকরা। তারা অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধে নাশকতা ঠেকাতে সরকার গত এক মাস ধরে নৈশকোচ চলাচল বন্ধ রেখেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি রাতে সারাদেশে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির প্রায় সাত হাজার বাস চলাচল করে। অথচ বর্তমানে এসব নৈশকোচ চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা।

এদিকে দিনে দেশে সব রুটে গাড়ি চলাচল করলেও যাত্রী সংকটের কারণে প্রত্যেকটি পরিবহন কোম্পানির সীমিত সংখ্যক গাড়ি চলাচল করছে। অপরদিকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান রাত ও দিনে চলাচল করছে। তবে অনেক মালিক ক্ষতির আশংকায় তাদের মূল্যবান পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন। অবরোধ-হরতালে দেশের কয়েকটি এলাকায় নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে  সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
নৈশকোচের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নৈশকোচ বন্ধ থাকায় নাশকতা অনেকটা কমেছে। এ অবস্থা আরো কিছু দিন থাকা প্রয়োজন। তবে পরিবহন সংগঠনগুলো এ নিষেধাধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সপ্তাহে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ডেকে আলোচনা করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন,  বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস দিনের চেয়ে রাতে চলাচল করে বেশি। অবরোধ-হরতালের প্রথম দিকে দেশের দূরপাল্লার অনেক রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু সরকারের দেয়া নিরাপত্তায় বাস চলাচল শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশের সব রুটেই কমবেশি বাস চলাচল চালুৃ করা সম্ভব হয়। কিন্তু দেশের কয়েকটি এলাকায় নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে পরিবহন সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও সরকার নৈশকোচ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আমরা ধরে নিয়েছিলাম এ নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা প্রায় এক মাস হতে চললো। এ ব্যবস্থায় পরিবহন মালিকরা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। এটা অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। এ ব্যাপারে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে মিটিং ডেকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে  তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন মালিকদের ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৬ জন পরিবহন মালিককে ৪ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেছেন। আগামী ১২ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত দুইশ পরিবহন মালিককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা রয়েছে।
বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি ও সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ফারুক তালুকদার সোহেল বলেন, দূরপাল্লার প্রত্যেকটি পরিবহনের ৪০ ভাগ বাস দিনে চলাচল করে। আর রাতে চলাচল করে ৬০ ভাগ বাস। দিনের চেয়ে রাতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকে। কিন্তু রাতে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তিনি অবিলম্বে নৈশকোচ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, এমনিতেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ নিষেধাজ্ঞা  দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করবে।
বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার এসোসিয়েশন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং  শ্যামলী পরিবহন ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, তার পরিবহনের বাস চলাচল করে দেশের ৪০টি রুটে। বর্তমানে সব রুটে দিনে বাস চলছে। তবে যাত্রী সংকটে সীমিত সংখ্যক বাস চালাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দিনে বাস চলাচল করে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর আর কোনো বাস ছাড়া যায় না। কারণ রাত ৯টার পর বাস চলাচল বন্ধ থাকার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে রাতে বাস চলাচল অব্যাহত থাকলে যাত্রী সংকটের ক্ষতিটা কিছুটা হলেও পোষানো সম্ভব হতো। এ পরিবহন মালিক অবিলম্বে রাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, অবরোধ-হরতালে তার ৮টি বাস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ভাংচুর হয়েছে ২৫টি বাস।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুস্তম আলী খান বলেন, দেশের সব রুটে পণ্য পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক মালিক তাদের মূল্যবান পণ্য পরিবহন করতে ভয় পাচ্ছেন। এ কারণে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান ঢাকা থেকে পণ্য নিয়ে কোনো স্থানে গেলে ওই স্থান থেকে অন্য কোনো পণ্য নিয়ে ঢাকায় ফেরে। কিন্তু অনেক এলাকায় গিয়ে খালি অবস্থায় ফিরতে হয়। এ কারণে ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফকরুল ইসলাম বলেন, দেশের অধিকাংশ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠতে শুরু করেছে। নৈশকোচের ওপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেশ কিছু রুটে রাতে বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।