ছদ্মবেশী পথচারীরাই পালাতে সহায়তা করে ঘাতকদের

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৫, ০১:১৮

লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিত্ রায়কে খুনের সময় আশেপাশে একাধিক ঘাতক অবস্থান করছিল। ১৫/২০ জন অভিজিত্ রায়কে ফলো করছিল। হত্যার সময় আশেপাশে ঘাতকরা পথচারীর ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে হামলা চালানোর সময় পথচারীর বেশে তারাই প্রথমে এগিয়ে যায়। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত একুশে বই মেলা প্রাঙ্গণ থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ‘ফলোয়ার’ অবস্থান করছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিজিত্ হত্যার ঘটনা তদন্তে এমনই তথ্য পেয়েছে।  এদিকে, হত্যার ঘটনায় ঢাকায় আগত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সদস্যদের কাছে অভিজিত্ রায়ের বাবা অজয় রায় বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল শনিবার  সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এফবিআইয়ের কাছে তিনি বক্তব্য দেন। ছেলেকে কেন এবং কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দেন অজয়। তিনি অভিযোগ করেন, তার মুক্তমনা ছেলেকে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীই হত্যা করেছে। মাঝে মধ্যেই তার ছেলেকে জঙ্গি গোষ্ঠী হত্যার হুমকি দিতো। এসব হুমকি উপেক্ষা করে তার ছেলে দেশে আসার পর ঐ চক্রটি পিছু নেয়। তারা পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ছেলের হত্যার বিচার চাওয়ায় ঐ চক্রটি তার মোবাইল ফোনেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তিনি আরো বলেন, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা জানে যে কারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে।

অন্যদিকে, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত হিযবুত তাহরীর নেতা শফিউর রহমান ফারাবীকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল তার রিমান্ডের তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ফারাবীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফারাবী হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি। তবে সে অভিজিেক হত্যার হুমকি দিয়েছিল সেটি স্বীকার করেছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে সে ফেসবুকে মন্তব্য করেছিল-সেটিও স্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, অভিজিত্ হত্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মাফিক খুনিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘাতকরা বেশ কয়েকজন ছিল। এ কারণে সেখানে যে একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে যাচ্ছে তা আশেপাশের লোকজন বুঝতে পারেনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় আশেপাশে পথচারীরাও ছিলো ঘাতকদের সহযোগী। তারা একুশে বই মেলা থেকে বের হওয়ার স্থান থেকে অভিজিত্ ও তার স্ত্রীকে অনুসরণ করে আসছিল। হামলার সময় পথচারীর ছদ্মবেশে ঘাতকরাই প্রথমে তাকে ঘিরে ধরে। ওই ঘাতকদের কাছেই অভিজিতের স্ত্রী সহায়তা চান। কিন্তু সহায়তার পরিবর্তে তারা ঘাতকদের পালাতে সহায়তা করে। এরপরই সেখানে আশেপাশে থেকে গণমাধ্যম কর্মী, চায়ের দোকানদার ও পুলিশ ছুটে আসে।