দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় রাশেদা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা করেছে তার স্বামী। সোমবার গভীররাতে উপজেলার উত্তর চরকাদিরা রববাজার এলাকার জাহের মাঝির বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে রাশেদার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে স্বামী মো. সুমন (৩০) পলাতক রয়েছেন। রাশেদা ওই বাড়ির মৃত তাজল হকের মেয়ে। সুপর্না (৪) নামের তার আরেক মেয়ে রয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আবদুজ্জাহের জানান, রাশেদা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাদুরতলা এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সুমনের সাথে পরিচয় হয়। সাত বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমন তাদের (শ্বশুর বাড়িতে) বাড়িতে বসবাস করতেন এবং পাশের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন।
তিনি আরো জানান, বিয়ের পর থেকেই সুমন বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে সুমন দাবিকৃত ওই টাকার জন্য রাশেদাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়। সোমবার রাতে একইভাবে টাকার জন্য চাপ দিলে রাশেদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জের ধরে দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমন ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে রাশেদাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক স্বামী সুমনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
