রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবৈধভাবে অন্যের জায়গা দখলে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ঢাকা-৬ আসনের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ। মঙ্গলবার তিনি ইত্তেফাককে জানান—উল্লেখিত প্লটটির বিষয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এ অবস্থায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই একটি মহল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার ঘটনা তার জন্য মানহানিকর।
সাবেক মন্ত্রী ফিরোজ রশীদ জানান—ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কে অবস্থিত ১০ নম্বর প্লটটির মালিক ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী। তার কাছ থেকে ভাড়ায় ওই বাড়িতে বসবাস করতেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও আলিম জুট মিলের মালিক আলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করে উল্টো নিজেকে বাড়িটির মালিক দাবি করেন। এ অবস্থায় মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী তার শরণাপন্ন হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় বাড়িটি বেদখলমুক্ত করেন। এতে যাবতীয় খরচও বহন করেন ফিরোজ রশীদ। এর পর মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী-সন্তানসহ ফিরোজ রশীদের পরিবার বেশ কিছু দিন ওই বাড়িতে একত্রে বসবাস করেন। এ অবস্থায় মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী প্লটটি ফিরোজ রশীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিলে তিনি বায়নানামা করেন। পরে প্লটটি রেজিস্ট্রি করার উদ্যোগ নেয়া হলে মোহাম্মদ আলীর পরিবার বিক্রীত অর্থ নিয়ে কানাডা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ জন্য তিনি সরকারের অনুমতি পাননি। পরে কিছু টাকা নিয়ে তারা কানাডা চলে যান। এরই মধ্যে বায়নার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। তখন একটি চক্র এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
ফিরোজ রশীদ আরো জানান—উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দখলসূত্রে প্লটটির মালিকানা দাবি করে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত থেকে পক্ষে রায় পান। এরপর হাইকোর্টও পক্ষে রায় দিয়ে এক মাসের মধ্যে তার নামে মিউটেশন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়, যা এখনোও বিচারাধীন।
ফিরোজ রশীদ জানান—দুদকের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখে তিনি অবাক হন। এ বিষয়ে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুদকের উপপরিচালক জুলফিকার আলী মঙ্গলবার ইত্তেফাককে জানান, ‘এ বিষয়ে মিডিয়ার কারো সঙ্গে আমার কথা হয়নি। প্রতিবেদন দেখে আমিও বিস্মিত হয়েছি।’
