গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শনের পর সমস্যা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সময়সীমা ঠিক করে দেয়া হলেও অনেক কারখানা তা করছে না বলে মনে করছে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। যথাসময়ে কারখানার সংস্কার কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে এসব কারখানার সাথে ব্যবসা করবে না বলে হুমকি দিয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের এ দুটি জোট।
ইতিমধ্যে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে বেশকিছু কারখানাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংস্কারের তাগিদ দেয়ার পরও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মানের উন্নয়ন না হলে তাদের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হবে।
অবশ্য মালিকপক্ষ বলছেন, ছোটখাট ত্রুটি সংশোধন করা হলেও বিশাল ব্যয়ের সংস্কার কাজে দেরি হচ্ছে। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স সংস্কারে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি করলেও কার্যত তা করছে না বলেও তারা অভিযোগ তোলেন। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনকালে কারখানার কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে যে ত্রুটি পাওয়া য়ায় তা সংস্কারে বিভিন্ন মেয়াদের ভিন্ন ভিন্ন সময় বেঁধে দেয়া হয়।
পুনঃপরিদর্শনের পর সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন অ্যাকর্ডের ওয়েবসাইটে সস্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, পরিদর্শনের পর ৭৩টি কারখানাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি কারখানা কমপ্লায়েন্সের মানে উন্নীত হতে পারেনি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এর পরও যদি কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্সের উন্নতি না করে তাহলে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ওই কারখানার সাথে ব্যবসা করবে না। সেই সঙ্গে ওইসব কারখানার তালিকা অ্যাকর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে পরিদর্শনকৃত কারখানাগুলোর সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে গত সপ্তাহে অ্যালায়েন্স বিবৃতি দিয়েছে। অ্যালায়েন্সের পরিচালনা পরিষদের প্রধান অ্যালেন টসার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কারখানার ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তায় অগ্রগতি না হলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দেবে ব্র্যান্ডগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ কংগ্রেস ওম্যান বলেন, কোন কারখানা থেকে পণ্য কেনার আগে অ্যালায়েন্সের স্বাক্ষরকারী ব্র্যান্ডগুলো পরিদর্শন প্রতিবেদন মূল্যায়ন করবে। আমাদের উদ্দেশ্য নিরাপদ গার্মেন্টস কারখানা যেখানে মালিকের কাছে তার শ্রমিকের নিরাপত্তা সবার আগে গুরুত্ব পাবে।
তার বিবৃতিতে দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘চলমান সহিংসতা আর অনিশ্চয়তার কারণে কারখানা পরিদর্শনের গতি মন্থর হয়ে গেছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সহিংসতা পরিহার করে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে বসা দরকার।’
অন্যদিকে কারখানার মালিকরা বলছেন, কারখানার সংস্কার কাজে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ের ত্রুটি সংশোধন করা হলেও ফায়ার ডোর, স্প্রিঙ্কলার স্থাপনের মত বড় ব্যয়ের সংস্কার কাজে দেরি হচ্ছে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স এ ধরনের কারখানার সংস্কার কাজে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থায়ন করবে বললেও কার্যত তারা তা করছে না।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের কথা আর কাজে মিল নেই। সংস্কার কাজে অর্থায়ন করবে বললেও তা করছে না। কিন্তু বড় বড় কথা বলে।’ অ্যালায়েন্সের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ৬শ’ কারখানার মধ্যে ৩টি কারখানা সংস্কারের জন্য টাকা পেয়েছে। তাতে সময় লেগেছে দুই বছর। অন্যদিকে অ্যাকর্ড কিছু কারখানাকে সংস্কারে অর্থায়ন করেছে বললেও আমাদের তা বলছে না।
রানা প্লাজা ধসের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষিতে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের কারখানা পরিদর্শন ও সংস্কারে সহায়তার উদ্যোগ নেয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোর উদ্যোগে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে গঠিত হয় আলাদা দুটি পরিদর্শন জোট। অ্যাকর্ড ১ হাজার ২শ’ ও অ্যালায়েন্স প্রায় ৬শ’ কারখানা পরিদর্শন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। পরিদর্শনে বড় ধরনের ঝুঁকি চিহ্নিত হওয়ায় ইতিমধ্যে ৩০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য কারখানাগুলোকে ত্রুটি সংশোধনে বিভিন্ন মেয়াদে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।