শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম চাহিদাও মেটাতে পারছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আধুনিক চিকিত্সা ব্যবস্থা নেই। দুর্বল প্যাথলজি ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানসম্পন্ন চিকিত্সা পরামর্শ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় সাধারণ চিকিত্সার জন্যও শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ছাড়া আর কোনো রোগেরই তেমন ওষুধ মেলে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে রোগেই আক্রান্ত হয়ে তারা চিকিত্সা কেন্দ্রে যান না কেন, অধিকাংশক্ষেত্রে চিকিত্সকরা প্যারাসিটামল কিংবা সিপ্রোসিন জাতীয় ওষুধ দিয়েই দায়িত্ব সারেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্রের প্রধান চিকিত্সা কর্মকর্তা ডা. একেএম আবদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিত্সা সেবা দিচ্ছে মেডিক্যাল সেন্টার। কিন্তু এটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নয়, তাই সব রোগের চিকিত্সাও প্রদান করা সম্ভব নয়। সাধ্যের মধ্যে সবটুকুই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীসহ রোগীদের রোগের ধরন অনুযায়ী কতগুলো ওষুধ চিকিত্সা কেন্দ্রে সংগ্রহ করা হয়। তহবিল স্বল্পতার কারণে অনেক ওষুধ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তারপরও ১৫ থেকে ২০টি কোম্পানির ওষুধ রয়েছে। তাই যে ওষুধগুলো চিকিত্সা কেন্দ্রে থাকে না সেগুলো বাইরে থেকে কিনে নিতে পরামর্শ দেয়া হয়। চিকিত্সকদের দায়িত্ব অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
চিকিত্সা কেন্দ্র সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২৪ শয্যাবিশিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারে ডাক্তার রয়েছেন ১৬ জন আর নার্স রয়েছে আট জন। এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি চিকিত্সা কেন্দ্রটি ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নতি করার। এছাড়া উন্নতমানের যন্ত্রপাতি, অভিজ্ঞ চিকিত্সক ও নার্স নিয়োগের দাবি না মানায় শির্ক্ষাথীদের ক্ষোভ রয়েছে।
এদিকে চিকিত্সা কেন্দ্রটিতে এম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র চারটি। কিন্তু প্রভাবশালী শিক্ষক ও ছাত্র নেতাদের তদবির ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ এম্বুলেন্স সেবা পান না বলে অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, মেডিক্যাল সেন্টারের সেবা তেমন ভাল না। ডাক্তাররা রোগীদের অভিযোগগুলো কম শুনতে চান এবং গতানুগতিক ওষুধ লেখেন। ফলে তাদের উপর আস্থা রাখতে পারে না শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা বাইরের হাসপাতাল থেকে চিকিত্সা নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী মো:হাসান বলেন, সর্দি-জ্বরের ওষুধ ছাড়া অন্যকোন ওষুধ ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে লিখে দিলে মেডিক্যাল সেন্টারের কাউন্টারে তা পাওয়া যায় না। কাউন্টারে কর্মরত কর্মকর্তারা বাইরের ফার্মেসি থেকে ওই ওষুধগুলো কিনে নিতে বলেন।