বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে প্রস্তাব দেবে স্টক এক্সচেঞ্জ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৫, ১৯:৪৫
 
 
 
 
পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে বাধা হিসেবে কাজ করছে আয়কর প্রক্রিয়া। বর্তমানে বন্ড কেনার সময়ই প্রস্তাবিত সুদের বিপরীতে অগ্রিম আয়কর দিয়ে দিতে হয়। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছ থেকেও কর আদায় করা হয়। অগ্রিম আয়কর দেয়ার এ প্রক্রিয়া বন্ড বাজারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পথে বড় অন্তরায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে—বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে আগামী বাজেট প্রস্তাবে আয়কর প্রক্রিয়া সংশোধনের প্রস্তাব দেবে স্টক এক্সচেঞ্জ। বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সরকারও কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বন্ড হস্তান্তরের ওপর নির্ধারিত দেড় শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি তুলে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য স্ট্যাম্প আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে সরকার কিছু রাজস্ব হারালেও তা কার্যকর বন্ড মার্কেট গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন—ট্রেজারি বন্ডের লট বড় হওয়াতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখানে আসতে পারছেন না। তবে ট্রেজারি বন্ডগুলোতে ব্যাংক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরই বিনিয়োগ করার কথা। কিন্তু তাদের খুব একটা আগ্রহ নেই। সরকারি বন্ডগুলোর সুদ তুলনামূলকভাবে কম হওয়া এর একটি কারণ। এ ছাড়া, অগ্রিম আয়কর কেটে নেয়ার প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের নিরুত্সাতি করে। আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে বর্তমানে বন্ডহোল্ডারের কাছ থেকে তালিকাভুক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের ওপর ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর নেয়া হয়। অথচ বিনিয়োগকারী সুদ পান বন্ডের মেয়াদপূর্তির পর। তাই বিনিয়োগকারীরা বন্ড কেনায় আগ্রহ পান না। এ ছাড়া, আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে ব্রোকারেজ হাউজের কাছ থেকে বন্ডের লেনদেনের ওপর দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হারে কর সংগ্রহ করা হয়। এই হারও তুলনামূলক বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এসব বিষয় চিহ্নিত করে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে সুপারিশ করা হবে।
জানা গেছে—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ট্রেজারি বন্ডগুলোর ইউনিটের কোনো লেনদেন হয় না। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি ডিএসইতে সাতটি সরকারি ট্রেজারি বন্ড তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্তির দিন ১ লাখ টাকায় একটি বন্ড ইউনিটের লেনদেন হয়। এর পর আর কোনো বন্ডের লেনদেন হয়নি। এরই মধ্যে শেয়ারবাজারে চার মেয়াদের ২২১টি সরকারি বন্ড তালিকাভুক্ত হয়েছে। এগুলোর মোট ইস্যুমূল্য ৫৫ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি (সরকারি) বন্ডের তালিকাভুক্তি এবং লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।