এবার নিয়মিত ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৫, ১৮:৫২
 
 
এবার নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের জন্য ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আদায়যোগ্য সুদ বা মুনাফার ১০ শতাংশ মওকুফ (রিবেট) সুবিধা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এ সুবিধা নিতে হলে আগের তিন বছরের ঋণ পরিশোধ থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতদিন ব্যাংকগুলো থেকে খেলাপি ঋণগ্রহীতারাই বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন তারা কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে ভালো গ্রাহকদের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তবে এতদিন বড় অঙ্কের খেলাপিরা ঋণ পরিশোধ না করেই যেসব সুবিধা নিয়েছেন,  যেখানে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করার তিন বছরের মাথায় ভাল গ্রাহকদের মাত্র ১০ শতাংশ রিবেট সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্তকে অতি সামান্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংকিং খাতে ৫০০ কোটি বা তার বেশি পরিমাণ ঋণ খেলাপিদের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই ১২ বছরের জন্য ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী জুন পর্যন্ত এ সুবিধা নিতে পারবেন ভুক্তভোগীরা। এর আগের বছরও একই কারণে নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। ওই সময় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলমান ঋণের ক্ষেত্রে ৩ বছর একাদিক্রমে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ সাপেক্ষে ৩য় বছরান্তে ভালো ঋণ গ্রহীতার হিসাবের বিপরীতে উক্ত বছরে আদায়কৃত সুদ বা মুনাফার কমপক্ষে ১০ শতাংশ অব্যাহতি (রিবেট) দিতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ভালোগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত থাকলে এ সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে। এদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে বর্ধিত ঋণ সুবিধাও প্রদান করতে হবে। একইভাবে তলবী ও মেয়াদি ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও এসব সুবিধা দিতে হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলো বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো ঋণগ্রহীতাদের পুরস্কৃত করে সামাজিকভাবে মর্যাদা সম্পন্ন বিবেচনা করার মাধ্যমে উত্সাহিত করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা প্রদান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণ আদায় ও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করে থাকে। এসব সুবিধার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালার আলোকেও তাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে। কিন্তু ভালো ঋণগ্রহীতাদেরকে উত্সাহিত করার জন্য কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা প্রদান করার নীতিমালা নেই। এ প্রেক্ষিতে দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন তাদেরকে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে উত্সাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাই ভালো ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে তাদেরকে প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।