না’গঞ্জে হোসিয়ারি শিল্প হুমকিতে, বেকার কয়েক লাখ শ্রমিক

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৫, ০০:৫৫

টানা অবরোধ ও হরতালে হুমকির মুখে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রায়  ১০ হাজার হোসিয়ারি প্রতিষ্ঠান। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জড়িত কয়েক লক্ষাধিক মালিক-শ্রমিক চরম উদ্বিগ্ন। দৈনিক প্রায় আড়াই কোটি টাকা বিক্রি নেমে এসেছে মাত্র কয়েক লাখ টাকায়। পুঁজি ভেঙ্গে খেতে খেতে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। কারখানা ও ব্যবসা ধরে রাখতে ধার-দেনা  করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় এটা দেয়া সম্ভব হবে না। যদি না পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারী ও মালিকরা এখন অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ সারাদিন দোকানে বসে গল্প-গুজব করছেন, আবার কেউ ক্রিকেট খেলা দেখে সময় পার করছেন। তবে বড় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ছোটগুলোর অবস্থা আরও করুণ। তাদের ৯৫ ভাগ মালিক বিভিন্ন এনজিও’র কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন।

গত দুই মাস ধরে ব্যবসায় ধস নামলেও সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি  পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের ত্রাহি অবস্থা। অন্যের কাছ থেকে নতুন করে ধার এনে কিস্তি পরিশোধ করছেন মালিকরা। কারণ ঋণ দেয়া প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য হচ্ছে, বিক্রি হলো কি হলো না তা দেখে লাভ নাই, কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। ফলে নিরুপায় মালিকরা। এতে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। এসব হোসিয়ারির সঙ্গে জড়িত রয়েছে কয়েক লক্ষাধিক মালিক ও শ্রমিক। প্রতিটি হোসিয়ারিতে ১০ থেকে সর্বোচ্চ শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া, বিবি রোড, নয়ামাটি, করিম মার্কেট, রেলিবাগান, দেওভোগ রেলওয়ে মার্কেট, টানবাজার, কাশিপুর  গলাচিপা, দেওভাগ, বন্দর এলাকায় হোসিয়ারি শিল্পের অবস্থান। উত্পাদিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে- বেবি আইটেম, পলো শার্ট, সেন্টু গেঞ্জি, টিশাট, আন্ডারওয়্যার, শীতের কাপড়, কার্ডিগানসহ বিভিন্ন পণ্য। দেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায় এই পণ্যের বাজার রয়েছে। উল্লেখ্য, শতাধিক বছরের প্রাচীন হোসিয়ারি ব্যবসা মূলত নারায়ণগঞ্জেই প্রতিষ্ঠিত। যদিও পাবনায় কিছু হোসিয়ারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলা শুধু নয়, বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। হরতাল অবরোধে তাও এখন বন্ধ। এই শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক লক্ষ শ্রমিক অবরোধ হরতালের কারণে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এক সময়ের হোসিয়ারি ব্যবসা থেকেই আজকের নীট শিল্পের জন্ম।