অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সঞ্চয়পত্রে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বিনিয়োগ এসেছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এ পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়নি। ঝুঁকিহীন এবং বেশি মুনাফার কারণে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সঞ্চয়পত্র বিক্রি সংক্রান্ত জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১৮ হাজার ২৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ২২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি।
এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল নয় হাজার ৫৬ কোটি টাকা। চলিত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এ সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ৮হাজার ১২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ছয় হাজার ৬৮৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।
সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে আট মাসে মোট বিনিয়োগ হয়েছে তিন হাজার ৪৬৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল্য পরিশোধ বাবদ আট হাজার ২৫০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ছয় হাজার ১০৮ কোটি দুই লাখ টাকা।
সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এসেছে দুই হাজার ৫৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১৯২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।
বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৮২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে বিনিয়োগ হয়েছে ৫৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল্য পরিশোধ বাবদ ১০৪৪ কোটি ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৭৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
এর আগের মাস জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আসে দুই হাজার ৬০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এতো বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা পড়েনি। এর আগের মাস ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আসে এক হাজার ৮৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
নবেম্বরে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১ হাজার ৪৬৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অক্টোবরে এসেছে দুই হাজার ২৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে আসে দুই হাজার ৪৯২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অগাস্ট মাসেও এক লাফে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ গিয়ে উঠে দুই হাজার ৪৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। চলতি অর্থবছরের (২০১৪-১৫) প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি আসে এক হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ১১জুন থেকে কোন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের টাকা ৫বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সযোগ ছিল। কিন্তু কর কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল ছাড়া গ্রাচুইটি ফান্ডের অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল না।
