যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে রেল কাউন্টার থেকে টাকা চুরির অভিযোগ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৫, ১৮:০৪
 
 
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে এ চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা এই ঘটনায় জড়িত।
 
আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ক্যাশ কাউন্টারে গত রবিবার সারা দিনের টিকেট বিক্রির টাকা রাখা হয়েছিল। আজ ভোরে আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করার পর বুকিং সহকারীর দায়িত্বে থাকা মহব্বত আলী টিকেট কাউন্টারের দরজা খোলা রেখে টেবিলের ওপর ঘুমিয়ে পড়েন। স্টেশন মাস্টার আব্দুর রাজ্জাকও টয়লেটে যান। এ সুযোগে টিকেট কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে টিকেট বিক্রির টাকাগুলো চুরি করা হয়।
 
বুকিং সহকারীর দায়িত্বে থাকা পয়েন্টসম্যান মহব্বত আলী জানান, তিনি ক্যাশ কাউন্টারের চেয়ার সরার শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেন, যুবলীগ নেতা আমিনুর বের হচ্ছেন। এ সময় তিনি থতমত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, উত্তরা ট্রেন কখন আসবে। তিনি তখনই ক্যাশে গিয়ে দেখেন টিকেট বিক্রির ৫০ হাজার টাকার বান্ডিলটি নেই। আমিনুর ছাড়া অন্য কেউ তখন ক্যাশ কাউন্টারে ঢোকেননি।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ঘটনার পরপরই মহব্বত আলী যুবলীগ নেতা আমিনুর ইসলামকে খোঁজাখুজি শুরু করেন। তিনি স্টেশন সড়কের প্রেসক্লাব এলাকা থেকে তাঁকে ধরে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর আমিনুর ইসলামকে তাঁর লোকজন স্টেশন কার্যালয় থেকে নিয়ে যায়। এরপর এ ঘটনাটি স্টেশন উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হককে জানানো হয়।
 
পরে এ ঘটনায় রেলগেট এলাকার একটি দোকান ঘরে সালিসী বৈঠক হয়। বৈঠকে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক, জাতীয়পাটির উপজেলা শাখার সভাপতি আবু ওহাব চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম স্বাধীন মাষ্টারসহ স্থানীয় কিছু লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আমিনুর ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
 
বৈঠকের কথা স্বীকার করে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বলেন, স্টেশন কাউন্টার থেকে অর্ধ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় সালিসী বৈঠকে আমিনুর ইসলামের অর্ধেক টাকা জরিমানা করা হয়। সে জরিমানার টাকা দিতে চেয়ে আমাদেরকে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রাখে। পরে আমরা সালিস বৈঠক থেকে চলে এসেছি। আমিনুর ইসলাম বলেন, আমি যেহেতু স্টেশনে গিয়েছিলাম। তাই বৈঠকে আমার অর্ধেক টাকা দিতে বলা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, আমি স্টেশনের টাকা চুরির ঘটনাটি শুনেছি। এটি লজ্জার ব্যাপার।