রংপুরের বাফার গোডাউনে ২৫০ টন জমাট ইউরিয়া

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৫, ১১:২৫
কোটি টাকা মূল্যের ২৫০ মেট্রিক টন আমদানি করা ইউরিয়া সার নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)। রংপুর বাফার গোডাউনে রাখা এই সার জমে সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার রাতে ১৩টি ট্রাকে করে বাঘাবাড়ি থেকে এই সার রংপুর বাফার গোডাউনে নিয়ে আসা হয়। রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের ইউরিয়া সার মনিটরিং কর্মকর্তা শামীম আক্তার বলেন, মূলতঃ একটি পরিবহন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ইউরিয়া সারগুলো প্রায় দুই বছর বাঘাবাড়ি ট্রানজিট পয়েন্টে পড়ে থাকায় শক্ত হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বিসিআিইসি কর্তৃপক্ষ এই সার রংপুর জেলায় সরবরাহ করেছে ঠিকই কিন্তু পরিশোধন না করে তা কৃষক পর্যায় সরবরাহ করা হবে না। রংপুর বাফার গোডাউনের ইনচার্জ মুকুল বলেন, সারগুলো নষ্ট নয়। তবে সারগুলো শক্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সারগুলো পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগী করে তবেই কৃষক পর্যায় সরবরাহের জন্য ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হবে। রংপুর সদর উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক আফতাব হোসেন জানান, এই সার ভেঙ্গে ব্যবহার করতে গেলেও তার গুণগত মান বজায় থাকে না। ফলে তা জমিতে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। তবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, ময়েশ্চারের কারণে যদি শক্ত হয় অবশ্যই সারের গুণাগুণ কমে যাবে। তাই জমিতে পুনরায় ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই ওই ইউরিয়া পরিশোধন করে নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চীনে কয়লার নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া তৈরি হয়। কয়লা থেকে উত্পাদিত এই সার বাতাসের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জমাট বেঁধে যায়। চীন থেকে উল্লেখিত সার আনতে প্রতি টনের দাম পড়েছে ৪০ হাজার টাকা। এই হিসাবে জমাট বাঁধা সারের দাম এক কোটি টাকা।
রংপুর জেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেম জানান, অনেক আগ থেকেই আমরা চীন থেকে এই সার আমদানি না করে অন্য দেশ থেকে তা আমদানির জন্য সরকারকে বলে আসছি। কিন্তু দাম কম হওয়ায় সরকার চীন থেকে এই সার আমদানি করে থাকে। বাতাসের সংস্পর্শে এসে চীনা সার জমে শক্ত হয়ে গেছে। ফলে তা ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই।
জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ বলেছেন, বিসিআইসি’র পক্ষ থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।