বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো গুণগতমানের পণ্য ও সেবা উৎপাদনের জন্য জাতীয় গুণগতমান (পণ্য ও সেবা) নীতি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য যাতে বিশ্বের অন্য দেশের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, এ নীতিতে সে ধরনের নির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার জাতীয় গুণগতমান (পণ্য ও সেবা) নীতি, ২০১৫-এর খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শিল্পসচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ শিল্প, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও বন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ও বিএসটিআই’র মহাপরিচালক, বেটার ওয়ার্ক অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস প্রোগ্রাম প্রকল্পের পরিচালক, বাংলাদেশে ইউনিডোর হেড অব অপারেশন এবং কারিগরি পরামর্শক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বাংলা ভাষায় প্রণীত খসড়া জাতীয় গুণগতমান (পণ্য ও সেবা) নীতি, ২০১৫ উপস্থাপন করা হয়। এ সময় খসড়া নীতির ওপর কমিটির সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসব মতামত সন্নিবেশিত করে দ্রুত নীতিটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাংলা ভাষায় প্রণীত খসড়া জাতীয় গুণগতমান (পণ্য ও সেবা) নীতি, ২০১৫ মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর এর ইংরেজি ভার্সন প্রস্তুত করার বিষয়ে সভায় ঐকমত্য হয়।
বাংলাদেশে গুণগতমানের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনিডোর সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন বেটার ওয়ার্ক অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস প্রোগ্রামের আওতায় জাতীয় গুণগতমান (পণ্য ও সেবা) নীতি, ২০১৫ প্রণয়ন করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান মান সংস্থা, টেস্টিং ল্যাবরেটরি, অ্যাক্রেডিটেশন, সার্টিফিকেশন ও ইন্সপেকশন বডির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বিশ্বমান অর্জন করাই এ নীতি প্রণয়নের লক্ষ্য। এ নীতি অনুমোদনের পর এর আলোকে আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
