চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)। তবে আগামী অর্থবছরে (২০১৫-১৬) এ হার বেড়ে ৬ দশমিক ৪ শতাংশেরও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে—বংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাঙিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বাংলাদেশ বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে এ সব সংস্কার কার্যক্রমের সাফল্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে। অবকাঠামো উন্নয়নের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে বিনিয়োগসহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারায় থাকবে।
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতনের পরও বাংলাদেশ সরকার পণ্যটির দাম কমাবে না বলে মনে করে এডিবি। এ ক্ষেত্রে সরকার জ্বালানি তেলের জন্য আগের দেয়া ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৫টি দেশের অর্থনীতি চলতি এবং আগামী বছর কেমন যাবে তার ওপর পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে এ প্রকাশনায়।
এডিবি মনে করছে—২০১৫ ও ২০১৬ সালে উন্নয়নশীল এশিয়ায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে। ২০১৪ সালে এ অঞ্চলে একই হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়ছে—বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এর একটি হলো—ইউরোপীয় ইউনিয়নে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ধীরগতি। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব অথবা বিদেশি অর্থায়ন কাঙ্ক্ষিত হারে না আসা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—গত জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। এর আগের ৬ মাস অর্থনীতিতে প্রাণবন্ত পরিস্থিতি ছিল। ফলে চলতি অর্থবছরে অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবরোধ এবং সহিংসতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধার মুখে ফেলবে এবং চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিবহন যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও রফতানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিকে আরো ক্ষতির মুখে ফেলবে বলে মনে করছে এডিবি। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ গত দুই বছরে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তাতে এর জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভূমির অতিরিক্ত দাম ও অবকাঠামো সংকটকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি। নতুন বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে এ অবস্থা সহায়ক নয়। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিদ্যুত্ ও জ্বালানিকে।
অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মা সেতু, মাতারবাড়ি কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
