বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি নিয়োগ ও অপসারণে কঠোরতা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৫, ০২:৪৪

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট শর্তারোপ করে বিধিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যখন তখন যে কাউকে মালিকরা এমডি নিয়োগ ও অপসারণ করতে পারবেন না। এছাড়া উপদেষ্টা ও পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন বেঁধে দেয়া হয়েছে। গতকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ।

সূত্র জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমডি নিয়োগ ও অপসারণের মালিকদের একক ক্ষমতায় থাকায় অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। গত ৩ মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বৈঠকে গভর্নর বলেন, কঠোর ব্যবস্থা নিয়েও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। মালিকরা স্বেচ্ছাচারীভাবে ঋণ নেয়াসহ নানা ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে। বৈঠকে পরিচালকদের অনিয়ম ঠেকাতে ব্যাংকের ন্যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রধান নির্বাহী নিয়োগ কিংবা অপসারণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের  হস্তক্ষেপ কামনা করেন এমডিরা।
গতকাল জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১৫ বছর ও এমডির আগের পদে ২ বছর এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণরা এ পদের জন্য যোগ্য হবেন। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালক বা কর্মকর্তার পদ থেকে বহিষ্কৃৃত হলে, কোনো পরিচালকের আত্মীয় বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলে কেউ ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি হতে পারবেন না। ঋণখেলাপি, পাওনা পরিশোধ না করা, দেউলিয়া ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে এমডি হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না।
প্রতি মেয়াদে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য এমডি নিয়োগ দিতে হবে। কর্মদক্ষতা বিবেচনায় মেয়াদ বাড়ানো যাবে। তবে প্রার্থীর বয়স ৬৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্তসহ যাবতীয় শর্তা উল্লেখ করে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পরই এমডি পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া যাবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় এমডিকে অপসারণ করতে পারবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া এমডিকে অপসারণ ও অব্যাহতি দেয়া যাবে না। তবে এমডি নিয়োগ বাতিল করতে চাইলে পরিচালনা পর্ষদের কাছে এক মাস আগে আবেদন করবে। আর পরিচালনা পর্ষদ চুক্তি বাতিল করতে চাইলেও কারণ উল্লেখ করে এক মাস আগে এমডি ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ চুক্তি বাতিল হবে না। পদশূন্য হলে তিন মাসের জন্য অব্যবহিত নিচের পদের কাউকে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও পরামর্শক নিয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমডি পদের সব যোগ্যতা ও নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে। তবে উপদেষ্টার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর ও পরামর্শকের সর্বোচ্চ দুই বছর। এটিও পুনঃনিয়োগযোগ্য। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালক, এমডি বা অন্যকোনো পদে নিয়োগ শেষ হওয়ার কমপক্ষে দুই বছরের আগে কাউকে উপদেষ্টা বা পরামর্শক নিয়োগ দেয়া যাবে না। এ পদের প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট বয়সসীমা বেঁধে দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।