পাকিস্তানে সামরিক আদালতের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়ছে

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৫, ১৬:৪৬
 
 
 
সেনাপরিচালিত একটি স্কুলে তালেবান বন্দুকধারীদের দ্বারা ১৩৪ শিক্ষর্থীর হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ পর পাকিস্তানি আইনপ্রণেতারা তাত্পর্যপূর্ণভাবে সামরিক আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছেন। ফলে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত বেসামরিক নাগরিকরাও সামরিক আদালতে বিচারের আওতধীন হবেন। সমালোচকরা বলছেন—নতুন এই আইনটি হলো সামরিক বাহিনীকে খুব বেশি ক্ষেত্র ছেড়ে দেয়া যা দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো একটি থেকে আরেকটি বেসামরিক সরকারে ক্ষমতা হস্তান্তর সত্ত্বেও পাকিস্তানি রাজনীতিকে টপকে যায়। খবর রয়টার্সের।
নতুন আদালত কতটুকু পক্ষপাতহীন এবং জবাবদিহিমূলক হবে—আইনজীবী এবং বিদ্যমান সামরিক আদালতের অধীনে বিচারাধীন ব্যক্তিদের পরিবারের দেয়া আইনি নথিপত্রের ভিত্তিতে রয়টার্সের একটি অনুসন্ধান সেই উদ্বেগকেও সামনে নিয়ে আসে। আইনজীবীদের মতে বেসামরিক আদালত কর্তৃক কিছু বিশ্বাস প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বেশ কয়েকজন বিবাদী বলেছেন—সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের আইনি প্রতিনিধিত্ব করতে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন—তারা বন্দি থাকা অবস্থায় নির্যাতিত হয়েছেন।
সামরিক আদালতের নথিপত্র এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—আদালতের রায় পছন্দ না হলে তা বাতিল করা এবং পুনরায় বিচার শুরু করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। সামরিক আদালতে দায়িত্ব পালন করা এ রকম একজন সাবেক সেনা কর্মকতা বলেন—তার দেয়া রায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপছন্দ হওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। নতুন আদালত নিয়ে এ সব ব্যাপারে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সামরিক বাহিনী। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারে অযোগ্যতার জন্য সরকারকেই অভিযুক্ত করেছেন। এভাবে সামরিক আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা এবং রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।