আলুর চিপস্ তৈরির গ্রাম জয়পুরহাটের শ্রীকৃষ্টপুর

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৫, ১২:৪২
 
আক্কেলপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম শ্রীকৃষ্টপুরের প্রায় দুইশ’ পরিবার আলুর চিপস্ তৈরি করছে। এসব চিপস্ সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সরকারি-বেসরকারি সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে চিপস্ ব্যাপক চাহিদা থাকায় তাদের এখনো পর্যন্ত লোকসান গুনতে হয়নি। 
জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণের শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের নারী-পুরুষরা আলুর চিপস্ তৈরিতে ব্যস্ত। আলুর মৌসুমে আলু সংগ্রহ করে সেগুলো সিদ্ধ করার পর কেটে রোদে শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে চিপস্। গ্রামের লোকজন জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে চিপস্ সারাবছর ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এই চিপস্ তৈরি করতে পরিশ্রম একটু বেশি হলেও লোকসানের মুখ তাদের দেখতে হয়নি আজ পর্যন্ত।
আকরাম হোসেন, তাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামসহ শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের চিপস্ ব্যবসায়ীরা জানান, পাঁচ মণ আলু সিদ্ধ করে সেগুলো কেটে রোদে শুকিয়ে এক মণ চিপস্ তৈরি করা যায়। এতে সব মিলিয়ে ৪/৫ হাজার টাকা খরচ হলেও লাভ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এভাবে এক চালান চিপস্ তৈরির পর বিক্রি করে একদিকে সংসারের খরচ চালাতে হয় অন্যদিকে নতুন করে আলু কিনে আবারো চিপস তৈরি করতে হয়। যাদের পুঁজি বেশি তারা বেশি করে আলু কিনে রাখতে পারেন। এতে লাভ বেশি হলেও গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের আলু কিনে রাখার সামর্থ্য নেই।
এই কুটির শিল্পটিকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জয়পুরহাট বিসিক কর্তৃপক্ষ। জয়পুরহাট বিসিক এর শিল্পনগরী কর্মকর্তা আকতারুল আলম চৌধুরী জানান, ওখানে যে চিপস তৈরি হচ্ছে বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা চাননি। আলুর চিপস তৈরি ও বিপণনে প্রশিক্ষণ বা প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার কথাও বিবেচনা করবে বিসিক।
জয়পুরহাটের এই প্রত্যন্ত গ্রামে চিপস তৈরির ফলে একদিকে খাদ্য উপাদান হিসাবে আলুর বহুবিধ ব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে দরিদ্র মানুষগুলো। আলুর চিপস তৈরির বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে জেলা কৃষি বিভাগ। জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ জেড এম ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, এভাবে আলুর বহুবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে একদিকে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে আলুচাষিদের উত্পাদিত আলুর ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হবে।