সে পথে আর পায়ের চিহ্ন পড়বে না

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ১৮:১৩

বিচ্যুতি আর বিকৃতির বুনো ঝাপটা থেকে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে মানুষকে আলোকিত করতে গ্রামের পর গ্রাম পায়ে হেঁটে বই বিলিয়েছেন পলান সরকার। সে পথে তার পায়ের চিহ্ন আর পড়বে না। একুশে পদক পাওয়া বই প্রেমী পলান সরকার চলে গেছেন না ফেরার দেশে (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

পলান সরকারের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউশা পূর্বপাড়া গ্রামে। তিনি নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন। একটানা ৩০ বছর এই কাজ করেছেন তিনি। বই পড়ার এমন আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ২০১১ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। দেশের জাতীয় দৈনিক গুলোতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। ইতিমধ্যে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটক তৈরি হয়েছে তাকে নিয়ে । পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি ছয় ছেলে ও  তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। 

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা ‘পলান’ নামে ডাকতেন। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে তার বাবা হায়াত উল্লাহ সরকার মৃত্যুবরণ করেন। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আর্থিক সংকটে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তার। এরপর নানা ময়েন উদ্দিন সরকার এবং মা মইফুন নেসা পলান সরকারকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি একটি স্কুলে ভর্তি হন। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে পলান সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন। কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস থেকে যায় আজীবন।

পলান সরকারের মৃত্যুতে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, উপজেলা নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, বাউসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

আরো পড়ুন: মুক্তি পেয়ে দেশের পথে ভারতীয় পাইলট

অপরদিকে, রাজশাহী সাংবাদিক ই্উনিয়নের সভাপতি কাজী সায়েদ ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, বাঘা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল লতিফ মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান এবং উপজেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি আমানুল হক আমান ও  সাধারণ সম্পাদক লালন উদ্দীনসহ বিভিন্ন  সামাজিক  সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। 

ইত্তেফাক/অনি