বুধবার রাতে গজারিয়া উপজেলায় ভাষানচরের কাছে যমুনার বুকে যাত্রীবাহী ট্রলার ও বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটিতে অন্তত ৭৫ জন যাত্রী ছিল। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। বালুভর্তি বাল্কহেডের মাথায় স্টিল বডির সঙ্গে ট্রলারে থাকা এক অজ্ঞাত যুবকের (২৫) লাশ গেঁথে আছে। পুলিশ ট্রলার ও বাল্কহেড দুটি জব্ধ করেছে।
মা-বাবার দোয়া”নামের বাল্কহেটটি বালু ভর্তি করে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে রাত ৮টার দিকে বিপরীতমুখী ট্রলারটিকে মাঝ বরাবর সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে এটি ট্রলারের গয়ে গেথে যায়। কোনভাবে ছুটাতে না পেরে চালক ও স্টাফরা বাল্কহেড ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে বাল্কহেডে আলো জ্বালানো থাকায় পুলিশ রাতে এটি সহজে সনাক্ত করতে পারে। ট্রলারটি অর্ধ নিমজ্জিত রয়েছে।
ট্রলারের যাত্রী ঢাকার বাদামতলীর ধনিয়ার মো. শামীম বেঁচে গেলেও তার দশ বছরের সন্তান ফয়েজ নিখোঁজ রয়েছে। বেঁচে যাওয়া যাত্রী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পিয়াস (২৫) জানান, তাঁরা মেঘনা-গোমতী সেতুর (দাউদকান্দি সেতু) বাউশিয়ার লঞ্চঘাট থেকে ট্রলারে করে চাঁদপুরের বেলতলীর লেংটার মেলায় যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৭টায় ট্রলারটি ছাড়ে। মূল মেঘনা নদীর মোহনায় ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বেশকিছু যাত্রী আহত অবস্থায় কোনরকমে তীরে উঠে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। তবে পিয়াসের তিন বছরের ভাতিজিসহ বাকী যাত্রীর ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে গজারিয়া থানার এসআই মো. হাবিবুর রহমান রাত সোয়া ১২ টায় জানান, গজারিয়ার ভাষারচর, কুমিল্লার মোল্লাকান্দি এবং চাঁদপুরের নবীপুরার মোহনায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এতে অন্তত ১৫ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, দুর্ঘটনা যে জেলায় ঘটুক না কেন, নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধারে সবরকম চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস তলবসহ সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাতে উদ্ধার কাজ সর্তকতার সঙ্গে চলবে। এছাড়া রাতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বালুর বাল্কহেড চলেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
