দুই বছরের শিশু লামিম আগুন চেনে না। বুঝে না আগুনের ভয়াবহতা। তবে এই আগুনই ছোট্ট ছেলেটার ভবিষ্যত্ অন্ধকার করে দিয়েছে। অবুঝ শিশুটি কেবল তাকিয়ে দেখছে। বাবা ইমরান মোল্লা অবরোধের আগুনে পুড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। কফিন আঁকড়ে ধরে কাঁদছেন মা লাভলী আক্তার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাভলী বলেন, ‘বার্ন ইউনিটে আনার পর অনেকেই বলেছে আমার স্বামী আর বাঁচবে না। তবে আমি আশা ছাড়িনি। কিন্তু সে আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। এখন চোখের জল ছাড়া কিছুই নেই আমার।’
ট্রাকচালক ইমরান মোল্লা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর গতকাল বুধবার সকালে তিনি হার মানেন। গত ২১ মার্চ মাগুরায় বালুর ট্রাকে দুর্বৃত্তরা পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মারলে আরও আট শ্রমিকের সঙ্গে দগ্ধ হন ইমরান। ওই ঘটনায় এ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হলো। নিহত অন্যরা হলেন: রওশন আলী, শাকিল মোল্লা, মতিন বিশ্বাস ও ইয়াদুল। দগ্ধ অন্য ৪ জন আরব আলী, ফারুক, নাজমুল ও নওশের বর্তমানে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শঙ্কর পাল জানান, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইমরান মোল্লা মারা যান। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
ইমরান মোল্লার বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার রাজধরপুর গ্রামে। বাবা সিরাজ মোল্লা। ছেলে লামিম ছাড়াও তার সাথী নামে ১০ বছরের একটি মেয়ে আছে। ছোট ছেলে লামিমকে নিয়ে স্ত্রী লাভলী আক্তার বার্ন ইউনিটে ছিলেন। স্বামী সুস্থ হয়ে উঠবে এই ছিলো মনের বাসনা। তবে স্বামী আর সুস্থ হয়ে উঠলো না। লাভলী কাঁদতে কাঁদতে জানান, চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তারা সপরিবারে থাকছেন মাগুরা সদরের মিরপাড়ার ভাড়া বাসায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখার আর কেউ রইলো না। আমাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে সে চলে গেলো।’
