ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। এ প্রবাদ বাক্যটি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের আয়েশা বেগম।
বাবার দরিদ্রতার কারণে ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাল্যবিয়ে হলেই বন্ধ হয়ে যায় তার শিক্ষাজীবন। কৃষক স্বামী মোস্তফার উপার্জন দিয়েও তার সংসার চলছে না। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এতে আয়েশা আরো চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর্থিক সংকট দূর করতে আয়েশা একটি বুটিকের দোকানে মাসে ১৫শ’ টাকা বেতনে চাকরি নেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে নিজের ঘরেই গড়ে তুলেন একটি বুটিকের কারখানা। এ আয় দিয়ে ছেলের লেখাপড়া ও সংসার চলতে শুরু হয়। এরমধ্যে আয়েশা তার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখার ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। এভাবেই ৭ বছর পার হলে আয়েশা উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাসও করেন।
সমাজের বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও এলাকার দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য নিজের ঘরে গড়ে তোলা ছোট বুটিকের আয় দিয়ে গ্রামে বড় করে একটি কারখানা গড়ে তুলেন। এতে ওই এলাকার প্রায় ৩শ’ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। ওই এলাকার এখন অনেক নারীরা আয়েশার বুটিকে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৫ ক্যাটাগরিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ জন করে জয়িতা বাছাই করেন। এতে আয়েশা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অর্থনীতি সাফল্যে প্রথম স্থান লাভ করেন। পরে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫০টি উপজেলার ২৫০ নারীকে পিছনে ফেলে ওই ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা লাভ করে নির্বাচিত হন আয়েশা। এর আগেও তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা ও রায়পুর উপজেলা পর্যায়ে এ সম্মাননা লাভ করেন। এখন জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও আয়েশা এখন নার্সিং ট্রেনিং নিচ্ছেন লক্ষ্মীপুরে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল টেকনোলজিতে।
আয়েশা জানান, আমার এই সম্মাননা সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য উত্সর্গ করেছি। তবে আমার গড়ে তোলা বুটিক কারখানায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে আরো নারীর কর্মসংস্থান করাসহ উত্পাদন বৃদ্ধি পেত।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিউলি আক্তার জানান, আয়েশার সাফল্যে রায়পুরবাসী গর্বিত। আমাদের পক্ষ থেকে আয়েশাকে সকল বিষয়ে পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ইউএনও শারমিন আলম জানান, আয়েশার মত নারীরা এগিয়ে আসলে সমাজ পরিবর্তন হবে। তার এ সাফল্যে উপজেলা থেকে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তার কারখানায় বিদ্যুতের বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হবে।
