প্রাক বাজেট আলোচনা

ভ্যাটের হার কমানোর দাবি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৫, ০৩:৩৩

সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট না রেখে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, লেভেল প্লেইং ফিল্ড সৃষ্টি করতে হবে সরকারকে। সে জন্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভ্যাটের হ্রাসকৃত হার চালু করতে হবে। গতকাল বুধবার প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ দাবি তুলে ধরেন। ১৫টি ব্যবসায়ী সংগঠন ওই আলোচনায় অংশ নেয়। রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় বিদ্যমান আয়করের বোঝা না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানো ও কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেন।

আগামী জুনের শুরুতে পরবর্তী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। প্রথা অনুযায়ী বাজেটের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে পরামর্শমূলক আলোচনা করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্টদের সাথে গতকাল আলোচনায় বসে। চলতি এপ্রিল ও আগামী মে মাসের বেশিরভাগ সময় জুড়েই বিভিন্ন পক্ষের সাথে এ আলোচনা চলবে।
গতকালের আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এস এ কাদের কিরণ অভিযোগ করে বলেন, আগামী বছর থেকে নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন চালু হওয়ার কথা। এর আগে বিদ্যমান নিয়মে ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাট দিতে পারবে। কিন্তু কর্মকর্তারা এখনই প্যাকেজ ভ্যাট নিচ্ছেন না। কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের অবৈধ অর্থ দেয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি হরতাল অবরোধে ব্যবসায়ের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে ভ্যাট আদায়ের বিষয়ে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুদ্রণ শিল্প সমিতির প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে ৭ হাজার মুদ্রণ শিল্প থাকলেও এর মধ্যে ২ হাজার শিল্পেরও ভ্যাট নিবন্ধন নেই। কিন্তু বাকীরাও কর্মকর্তাদের ঠিকই অবৈধ অর্থ প্রদান করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ভ্যাটের হার বেশি হওয়াকে এ জন্য দায়ী করে তিনি ভ্যাটের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।
এ সময় এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দীন বলেন, বিশ্বের যে দেশেই ব্যবসায়ীরা সচেতনভাবে ভ্যাট প্রদান ব্যবস্থার পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) করেন না সেখানেই ভ্যাটের হার বেশি। তিনি বলেন, ভ্যাটের হার কমানোর বিষয়ে দ্বিমত করি না। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কমপ্লায়েন্স লেভেল বাড়াতে হবে।
এ সময় আলোচনায় অংশ নেন সুপারশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, মেডিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এন্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন, কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশন, পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিপণন সমিতি, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ, ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্যুরস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশ অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এর প্রতিনিধিরা।
এ সময় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক, উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমদ, অতিরিক্ত সচিব শাহ আবদুল খালেক, এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।