রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর রাজপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিহত ওয়াহিদা সিফাতের (২৭) চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে সিফাতকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী আসিফ, শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলীকে আসামি করা হয়েছে।
গত রবিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মৃত অবস্থায় সিফাতকে নিয়ে যাওয়া হয়। সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার থুতনির নিচে এক ইঞ্চি পরিমাণ লালচে জখম ছিলো। আর ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে সিফাতের মাথার পেছনে আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিফাতের দেড় বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পাঁচ বছর আগে ওয়াহিদা সিফাতের সঙ্গে রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকার মোহাম্মদ হোসেন রমজানের ছেলে আসিফের বিয়ে হয়। সিফাত স্বামীসহ শ্বশুর শাশুড়ির সাথে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বেকার আসিফ ব্যবসার নামে যৌতুক হিসেবে ২০ লাখ টাকা সিফাতের বাবার কাছ থেকে এনে দিতে চাপ দেয়। কিন্তু সিফাত যৌতুক এনে দিতে অস্বীকার করলে আসিফ মাঝে মধ্যে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতো। সিফাতের শ্বশুর-শাশুড়ি নির্যাতনের বিষয়টি জানলেও আসিফকে কোন বাধা দিতো না।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকার পল্লবীতে পিতার বাসায় যাবার জন্য গত রবিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু ট্রেনের টিকিট কাটেন সিফাত। ওইদিন রাত সোয়া ১০টার দিকে মোহাম্মদ হোসেন রমজান মোবাইল ফোনে সিফাতের ভাই আসিফুল ইসলামকে জানান, সিফাত মুমূর্ষু অবস্থায় তার ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। এর ৫ মিনিট পর রমজান আবারো মোবাইল ফোনে জানান, সিফাত গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সে মারা গেছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের লোকজন ঢাকা থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসেন। এসময় তারা দেখেন সিফাতের মাথা ও শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। এছাড়া মাথার ডান দিকে চোখের পাশে রক্ত জমাট বাঁধা। রাজপাড়া থানার ওসি মেহেদী হাসান মামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এসআই শরিফুল ইসলামকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে আটক আসিফকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সিফাতের গ্রামের বাড়ি রংপুর। তার পিতা আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক। তার সহোদর আসিফুল ইসলাম বলেন, দেড় বছরের সন্তানকে ফেলে কোনো মা আত্মহত্যা করতে পারে না।
