জনবান্ধব ডাটা নিশ্চিত করতে কাজ করবে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২০:৫৫

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সকল সেক্টরের ডাটা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিদ্যমান সেবাসমূহকে জনবান্ধব উপায় প্রদানে সম্প্রতি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটের থ্রিডি সেমিনার হলে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ডাটা: প্রিসিয়াস রিসোর্স অব টুয়েন্টিফার্স্ব সেঞ্চুরি’ শীর্ষক কর্মশালাটি এটুআই, ই-গভর্নমেন্ট লিডারশিপ সেন্টার এবং সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এবং এর আওতায় ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশল বিনিময়ে সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশের মধ্যে দু’বছরব্যাপী ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মশালায় বিভিন্ন সেশনের পাশাপাশি ডাটাভিত্তিক পলিসি গঠন বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এর সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এর ইন্সটিটিউট অব সিস্টেমস সায়েন্স এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খং চান ম্যাং এবং গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের পরিচালক ড. ল্যাং মুন কিউ। প্যানেল আলোচনায় মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআই -এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘এই ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জ্ঞান বিতরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিজেদের সেবাগুলোকে আরো জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ডাটা’র মালিকানা স্বত্বের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং বিশাল ডাটার নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সকল ডাটা একত্রিত করে এর সুষ্ঠু প্রক্রিয়াকরণ করা প্রয়োজন।’ বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন পর্যালোচনা এবং ডাটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

এছাড়াও অন্যান্য প্যানেল আলোচকরা ৭টি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। জনবান্ধব ডাটা সুনিশ্চিত করতে হবে, ডাটা সঙ্গতি এবং ডাটার আন্তঃসংযোগ স্থাপন করতে হবে, এনালগ ডাটা সোর্সকে ব্যবহার না করা, রিপোর্টিং ও পরিকল্পনার জন্য ডাটা ব্যবহার না করে সার্ভিস ডেলিভারির জন্য ব্যবহার করা, ডাটা’র গুণগত মান এর ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা, সরকারি পর্যায়ে ডাটা দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সেক্টরে ডাটা সমন্বয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।  

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত নানা ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রক্ষিতে এই কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়েছে। এই কার্যক্রম মূলত এটুআই এবং ই-জিএল কর্তৃক গৃহীত দুই বছরব্যাপী ‘ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা। ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পলিসি নির্মাণের গুরুত্ব ও উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ কর্মশালাটির প্রধান উদ্দেশ্য। এর মধ্যে রয়েছে- অপেক্ষাকৃত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মডেল নির্মাণ এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডাটা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি -এর সহায়তায় এটুআই ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ ১১টি মন্ত্রণালয় এবং ৫টি স্বায়ত্তশাসিত/সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাটা বিষয়ে এক্সপার্ট, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীরাসহ এতে আরো অনেকে অংশগ্রহণ করেন।