হাসপাতালে বিশেষজ্ঞদের সান্ধ্য রাউন্ড বাধ্যতামূলক

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫২

দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও জেলা সদর হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ চিকিত্সকদের সান্ধ্যকালীন রাউন্ড দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিট প্রধানদের নিয়মিত সান্ধ্যকালীন রাউন্ড দিতে হবে।

অনেক জ্যেষ্ঠ চিকিত্সকই দিনের বেলায় হাসপাতালে আসেন না। নানা অজুহাতে তারা হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন। অনেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে কয়েক ঘন্টা পর হাসপাতাল ত্যাগ করেন। অধ্যক্ষ ও পরিচালককে তারা এ বিষয়টি অবহিত করেন না। চিকিত্সকরা দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় এমনটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জ্যেষ্ঠ চিকিত্সকদের অনুপস্থিতির কারণে সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা জুনিয়র চিকিত্সক নির্ভর হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্য সেবায়। ঘটছে ভুল চিকিত্সাসহ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু।
সমপ্রতি বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নজরে আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ ব্যাপারে কঠোর ভাষায় বলে দিয়েছেন, জ্যেষ্ঠ চিকিত্সকদের সান্ধ্যকালীন রাউন্ড বাধ্যতামূলক। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের রাতেও সেবা দিতে হবে। যারা অনুপস্থিত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রীর এই নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দেশের সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট ও জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  এতে বলা হয়েছে, এই কার্যক্রম স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিত মনিটরিং করবে।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা আগে সান্ধ্যকালীন রাউন্ড দিতেন। মাঝখানে মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও হাসপাতাল নানা কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়। রোগীরা বঞ্চিত হত সু-চিকিত্সা পাওয়া থেকে।
মন্ত্রীর নির্দেশনার পর এবার বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট এবং জেলা সদর হাসপাতালে রোগীরা রাতেও ভালো সেবা পাবেন। জেলা সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিত্সক এবং ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার সান্ধ্যকালীন রাউন্ড দিবেন।
রাজধানীর সরকারি ৭টি চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বহু বছর ধরে সান্ধ্য রাউন্ড বন্ধ ছিল। এটি বন্ধ থাকায় অনেক রোগী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
চিকিত্সকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর বাইরে দলীয়ভাবে বিএনপি সমর্থিত চিকিত্সকদের সংগঠন ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও স্বাধীনতা সমর্থিত চিকিত্সকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) গঠিত হয়। এসব সংগঠনের কারণে স্বাস্থ্য খাতে রাজনৈতিক বলয় তৈরি হয়। যার প্রভাব গিয়ে পড়ে সান্ধ্যকালীন রাউন্ডের উপরও।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম বলেন, সান্ধ্যকালীন রাউন্ডের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো:নুরুল হক বলেন, সান্ধ্যকালীন রাউন্ড শুরু হয়েছে। এতে জটিল এবং সংকটাপন্ন রোগীরা উপকৃত হবেন। এখন থেকে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকার বাইরের সিলেট মেডিক্যাল, রংপুর মেডিক্যালসহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানা যায়, অধিদফতরের নির্দেশ পাওয়ার সেখানেও সান্ধ্যকালীন রাউন্ড শুরু হয়েছে। তবে অনেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এখনো আদেশটি পায়নি।
একাধিক জুনিয়র চিকিত্সক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেলা ২টার পর থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত এই হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা পুরোটা নির্ভর ইন্টার্ন ডাক্তার এবং জুনিয়র ডাক্তারদের উপর। এ সময় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকায় জুনিয়র ডাক্তাররা অনেক সময় জটিল অপারেশন করেন। জুনিয়রদের জানার সীমাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ অপারেশন সফলতার মুখ দেখে না।
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাছির উদ্দিন বলেন, কেউ কেউ সান্ধ্যকালীন রাউন্ড দিচ্ছেন। আশা করি, সবাই রাউন্ড দেয়া শুরু করবেন। রোগীরা এতে করে উপকৃত হবেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন বলেন, চিকিত্সকরা রাউন্ড দেয়া শুরু করেছেন।