সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর দুই বছর পার হয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় চাকরির ব্যবস্থার আশ্বাস দেয়া হলেও কার্যত এখনো অনেক শ্রমিক বেকার। বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইডের এক জরিপে শ্রমিকদের চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক সেমিনারে সংস্থার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে গার্মেন্টস মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও রানা প্লাজার শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জানানো হয়, গত এক বছরে রানা প্লাজার শ্রমিকদের ২৫০ জনের মধ্যে একটি জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায় কাজ করার সামর্থ্য থাকা ৫৬ জন শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন না। ১৮০ জন গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছেন। আর বাকি ১৪ জন নানা কারণে কাজে ফিরতে চাচ্ছেন না।
২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। ওই ভবনের ৫টি কারখানায় কাজ করতো প্রায় ৩ হাজার ৬শ’ শ্রমিক। দুর্ঘটনার পর বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, কাজ করতে সমর্থ এমন শ্রমিকদের বিজিএমইএ’র উদ্যোগে অন্য কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
রানা প্লাজার শ্রমিক শিউলি রানীর অসুস্থ একটি শিশু সন্তান আছে। স্বামী নেই। প্রতি মাসে একবার শিশুটির শরীরে রক্ত দিতে হয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কারখানায় চাকরি নিলেও তার সন্তানের জন্য মাঝে মাঝে ছুটি নিতে হতো। নিজেও শারীরিক সমস্যার জন্য দীর্ঘসময় বসে থাকতে পারেন না। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো সহযোগিতা পাননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তিন মাস পর চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছে। এর পর আর চাকরি করার সুযোগ হয়নি। প্রতি মাসে সন্তানের জন্য ৬ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এখন কেবল সন্তানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলেও কাজ করতে চাই। কে দেবে কাজ?’
এ সময় নাজমা, সোলায়মান আর রাখাল চন্দ্র নামে আরো কয়েক শ্রমিক কর্মসংস্থানের প্রয়োজনের কথা জানান। তাদের মধ্যে কেউ ড্রাইভিং বা কারিগরি কাজ শিখেছেন। শারীরিক সামর্থ্য আগের মতো না থাকলেও কাজ করতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।
তবে রানা প্লাজার শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন না— এমন তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র উদ্যোগে অন্য কারখানায় কাজ দেয়া হলেও তারা পরবর্তী সময় চলে গেছে। এখন যারা কাজ করতে চায় তারা চাইলে মালিকপক্ষের সংগঠন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু রানা প্লাজার শ্রমিকরা সাভার এলাকা ছেড়ে যেতে চাইছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় বক্তারা বলেন, সব শ্রমিককে একই কাজের ব্যবস্থা করা যাবে না। শ্রমিকদের প্রয়োজন, শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের জন্য বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অ্যাকশন এইডের প্রকল্প পরিচালক আসগর আলী সবরির সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে আইএলওর প্রকল্প পরিচালক টুমো পুটিনেন, সিএসআইডির পরিচালক খন্দকার জহিরুল আলম, বিজিএমইএ’র অতিরিক্ত পরিচালক জগলুল হায়দারসহ বিভিন্ন কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এ সময় জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অ্যাকশন এইডের প্রকল্প পরিচালক আমানুর রহমান।
