শরণখোলায় হিমাগার না থাকায় আলু চাষিরা বিপাকে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৫, ১৭:১২
বাগেরহাটের শরণখোলায় এবছর আলু চাষে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে বাম্পার ফলন পেলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। এতো আলু কিভাবে সংরক্ষণ করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। একটি হিমাগারের অভাবে আলু নিয়ে হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় শত মণ আলু মাঠে স্তূপ রেখেই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে আশাতীত ফলন পেয়েও আশানুরূপ লাভ পাচ্ছেন না তারা।
 
বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ আলু ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হিমাগার থাকলে প্রতিমণ আলু ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারতেন কৃষকরা। তাতে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব হতো। আলু চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়তেন উপকূলীয় এলাকার শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে খোন্তাকাটা এলাকায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ওই ইউনিয়নের পূর্ব রাজৈর গ্রাম ও দ্বীপচর গ্রামকে  স্থানীয়ভাবে বলা হয় আলুর গ্রাম।
 
উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের সাবেক কৃষকলীগ নেতা বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর এ অঞ্চলের অভিশাপ হলেও বর্তমানে তা কৃষি কাজের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিডর পরবর্তী সময় মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কৃষকরা দাবি করেন। তবে হিমাগার থাকলে বীজআলু এবং তাদের উত্পাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারতেন। আগামী মৌসুমে বীজআলু সংগ্রহের জন্য এ অঞ্চলের কৃষকদের মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে ধর্ণা দিতে হবে। তাই একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠার জন্য এ অঞ্চলের কৃষকরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, শরণখোলায় কৃষকদের দিয়ে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। এখানকার মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা সারা বছরই কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ উপজেলায় একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি।  বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে।