ঢাকা উত্তরের নতুন মেয়রের কাছে প্রত্যাশা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২১:২২

মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে। ইতিহাসে অনেক মানুষই তাঁর কর্মের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন তেমনি আবার নেতিবাচক কর্মের জন্য হয়েছেন নিন্দিত। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনিসুল হক আজো ঢাকাবাসীর কাছে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত। যানজট সমস্যা সমাধানে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। তিনি নানা সমস্যায় জর্জরিত ঢাকাকে সাজানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন, স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ঢাকাবাসীকে। কিন্তু তাঁর সেই সফল উদ্যোগে ভাটা পড়ে, তাঁর বিয়োগের মাধ্যমে। সেই স্বপ্নকে সফল করার দায়িত্ব নিতে চলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। তাঁর কাছে ঢাকাবাসীর চাওয়া থাকবে আনিসুল হকের নানা সংস্কার উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন।

যেমন যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন সড়ক তৈরি করা এবং দখলে থাকা সড়কগুলোকে সচল ও পরিষ্কার করা। জলাবদ্ধতা ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য পুরাতন খালগুলোকে দখলমুক্ত করে সচল করা এবং রাস্তার পাশে ডাস্টবিন স্থাপন করে রাজধানীকে ময়লামুক্ত করা। যদিও এই ডাস্টবিন স্থাপন প্রকল্প সফল হয়নি। কারণ এর মূল্যায়ন ঢাকাবাসী করেনি। কারণ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার অভ্যাস ঢাকাবাসী ত্যাগ করতে পারেনি। কোথাও কোথাও ময়লায় ডাস্টবিন ভর্তি হলেও তা সরানোর লোক খুঁজে পাওয়া ভার। ডাস্টবিনগুলো উধাও হওয়ার ফলে অবশেষে এই কার্যকর উদ্যোগের অপমৃত্যু হয়েছে ।

আনিসুল হক চেয়েছিলেন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ শ্যামল ঢাকা গড়া। পরিশেষে সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করা যেমন ‘অপ্রয়োজনীয়টা রেখে যান, প্রয়োজনীয়টা নিয়ে যান’। যেখান থেকে যার যেটা প্রয়োজন সেটা নেওয়ার প্রকল্প। যেখান থেকে গরিব অসহায়রা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিস নিতে পারবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গলির মোড়ে, রাস্তার পাশে স্টলের মতো করে এর কার্যক্রম নেওয়া। এর মধ্যে সেরকমই স্টল আরজতপাড়া জামে মসজিদের পাশে শোভা পাচ্ছে। এবং মানবতার দেয়াল নামে বনানী ফুটওভারব্রিজের পাশের দেয়ালে হ্যাঙ্গারে জামা-কাপড় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব স্টলের উপরে লেখা রয়েছে : প্রয়োজনীয়টা নিয়ে যান, অপ্রয়োজনীয়টা রেখে যান। বনানী স্টলের সবার উপরে লেখা আছে মানবতার দেয়াল। আর সবার নিচে লেখা আছে আসুন মানবতার কাজে সবাই হাত মিলাই। যদিও এই উদ্যোগ ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু তা যদি সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নেওয়া হয়—তবে তা আরো কার্যকর হবে। কারণ জিনিসপত্র রাখার জন্য ছোট্ট টং দোকান বা স্টল দরকার। যা নির্মাণ করে দিতে পারে সিটি করপোরেশন।

এই উদ্যোগকে সফল করতে আমাদেরও এগিয়ে আসা দরকার। যাদের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আছে যেমন কাপড়-চোপড়, জুতা-মোজা, খেলনা, পুরাতন আসবাবপত্র—এগুলো এসব স্থানে রাখা হলে অনেকের তা উপকারে আসবে। অনেক সময় দেখা যায় অনুষ্ঠানের অনেক খাবার বেঁচে যায়—এসব খাবার সেইসব স্টলে রাখা হলেও দুস্থ ও নিম্ন্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবে। যে এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিলে তা মানব কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা