ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন আজ বৃহস্পতিবার। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসার কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন। আগামীকাল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হবে। সিটি নির্বাচনে তিনটি পদে প্রার্থীদের জন্য ৩৪টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হলেও প্রার্থী বেশি হওয়ায় নতুন প্রতীক সংযুক্ত করা হচ্ছে। এজন্য প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্রতীক বাছাই করেছেন ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা। এদিকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা প্রচারণায় অংশ নিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিশন। সংশ্লিষ্টদের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। গতকাল রাতেই ফ্যাক্সের মাধ্যমে মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চীপ হুইপ, হুইপ এবং সরকারের কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তার সমপদ মর্যাদাসম্পন্ন সরকারি সুবিধাভোগী কোন ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিন সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৫৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১৯ জন, দক্ষিণে ২৪ জন এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ১২ জন। এছাড়া তিন সিটিতে কাউন্সিলর পদে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের বড় একটি অংশ আজ তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন। দলীয়ভাবে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিক হওয়াতে অনেক প্রার্থী দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। তবে দলীয় এ সিদ্ধান্ত সহজে মানতে পারছেন না বৈধ প্রার্থীরা। তারা ইত্তেফাককে বলেছেন, দলীয়ভাবে চাপ প্রয়োগ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হচ্ছে। যা নির্বাচনী আইন বিরোধী। প্রার্থিতা প্রত্যাহারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে আগারগাঁওয়ের এনআইএলজি ভবনের দ্বিতীয় তলায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে মহানগর নাট্যমঞ্চে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এবং চট্টগ্রাম সিটির ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিভাগীয় আঞ্চলিক অফিসে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থী নিজে গিয়ে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। একই স্থানে শুক্রবার সকাল থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।
তালিকায় সংযুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত প্রতীক
এবারের ইসির প্রতীক তালিকায় নতুন করে আরো ৩০টি প্রতীক সংযুক্ত করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনে মেয়র পদের জন্য ১২টি প্রতীক, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ১০টি ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ১২টি প্রতীক পৃথক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। কিন্তু প্রার্থী বেশি হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনা বিধি অনুযায়ী নতুন প্রতীক যোগ করা হচ্ছে।
প্রতীক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে ইসির উপ-সচিব মো. সামসুল আলম বলেন, সিটি নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিটি পদের জন্য ৫ থেকে ৬টি প্রতীক বেশি লাগবে। বাড়তি প্রতীক লাগলেও ইসি অন্য নির্বাচনের প্রতীক ব্যবহার করবে না। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্রতীক বাছাই করা হয়েছে। এখনো বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে ইসি চূড়ান্ত অতিরিক্ত প্রতীক নির্ধারণ করবে।
ইসির অতিরিক্ত প্রতীকের তালিকায় থাকা অন্য প্রতীকগুলো হল— কামরাঙ্গা, কেক, ছুরি, জাহাজ, ঝুমঝুমি, টিফিন বক্স, পিঁড়ি, টুপি, থালা, হাঁড়ি-পাতিল, ইট, আংটি, বর-কনে, দা, নেলকাটার, পাটপাতা, বেল্ট, মগ, ব্লেজার, স্ট্যাপলার মেশিন, সোফা, হকি ও টুথব্রাশ।
মন্ত্রীরা প্রচারণায় থাকলে ব্যবস্থা
সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদার কেউ আচরণবিধি লংঘন করে প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তারা যদি আচরণবিধি বিরোধী কাজ করেন তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
ইসি কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলে আচরণবিধি বহির্ভূত বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া কেউ যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং অফিসারকেও নির্দেশ দেয়া রয়েছে। নির্বাচনে প্রভাব পড়ে এমন কোন কার্যক্রমে মন্ত্রীদের অংশ না নেয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রামের মন্ত্রীদের বিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, চট্টগ্রামে তিন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত যে বৈঠকটি হয়েছে, তাতে বিধি লঙ্ঘন হয়নি। কারণ এটা রুদ্ধদার বৈঠক ছিল। জনসম্মুখে তারা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। গত ১ ও ২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহরের শেষ সময়। ১০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ। তিন সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৮ এপ্রিল।