ছাতকে নির্ধারিত সময়ে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করতে পারেননি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)। মাটি ভরাট, পাইলিং, গাছ ও ঘাস লাগানো এখনো অসমাপ্ত রয়েছে প্রত্যেকটি বাঁধের। এ কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত গড়ে বাঁধের ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা।
জানা যায়, ছাতকে নাইন্দার হাওর, চাউলীর হাওর ও ডেকার হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে ৭টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষায় ৩টি প্রকল্পে ১ কোটি ১৪ লাখ, ডেকার হাওরে ২ টি প্রকল্পে ২৭ লাখ ৪৪ হাজার ও চাউলির হাওরে ২টি প্রকল্পে ৫৭ লাখ টাকা। গত ১৭ জানুয়ারি থেকে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে পিআইসিগুলো।
বাঁধ নির্মাণে ধীরগতির পাশাপাশি বিভিন্ন বাঁধের কাজে অনিয়মও পরিলক্ষিত হয়েছে। এর আগে গত শনিবার বাঁধের কাজে অনিয়মের অভিযোগে নাইন্দার হাওরের ১নং পিআইসি’র সভাপতি আব্দুর রশিদকে আটক করে পুলিশ। পরদিন রবিবার ইউএনও’র নির্দেশে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান। উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওরের ১নং পিআইসি কর্তৃক নির্মাণাধীন বাঁধ পরিদর্শন করে পুলিশের উচ্চপদস্থ দু’কর্মকর্তা বাঁধ নির্মাণকাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন ডিআইজি। এসব ত্রুটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূরণ করার পরামর্শও দেন তিনি। নির্মাণ কাজে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে পিআইসির কাছ থেকে সঠিক কাজ আদায় করে নেওয়ার জন্য ছাতকে দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী ভানুজয় দাসকে বলেন। এসময় ১নং পিআইসি’র সভাপতি কচুদাইড় গ্রামের বাসিন্দা মো.আব্দুর রাশিদ বলেন, বাঁধের ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা হবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই বাঁধের অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে। এদিকে নাইন্দার হাওরের ২ ও ৩নং পিআইসি কর্তৃক বাঁধের কাজ অর্ধেক হয়েছে বলে দাবি করছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার চাউলীর হাওর ও ডেকার হাওর রক্ষায় ৪টি বাঁধের কাজ অর্ধেকের চেয়েও কম করেছে পিআইসি। পুরানো বাঁধে মাটি ফেলে দিয়ে দুটি বাঁধ লেভেল করা হয়েছে। মাটির কাজ, গাছ ও ঘাস লাগানোর কাজ বাকি রয়েছে। গত বুধবার থেকে ছাতকে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সঠিকভাবে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোর কাজ না হওয়ায় অনেক স্থানে বাধঁগুলোর মাটি দেবে যাচ্ছে। বৃষ্টির ফলে হাওরের বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। হাওর রক্ষা বাঁধ মনিটরিং করার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলেও এখানে এ কমিটির কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলেও স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ভানু জয় দাস এ ব্যাপারে জানান, সবগুলো পিআইসি’র কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এখানের ৭টি পিআইসি’র মধ্যে গড়ে কাজ হয়েছে ৬৫ ভাগ।
