ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুভাস চন্দ্র বসুর অন্তর্ধান সংক্রান্ত গোপন ফাইল প্রকাশ করার দাবিতে সরব হলেন খোদ নেতাজির পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার কলকাতায় আইএনএ ভবনের সামনে তারা এই বিপ্লবী নেতার মৃত্যু সংক্রান্ত গোপন ফাইলগুলো প্রকাশ করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান।
'আমরা চাই নেতাজির মৃত্যু সংক্রান্ত যে শতাধিক ফাইল কেন্দ্রীয় সরকার গোপন রেখেছেন তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক', সুভাস বসুর পুতি অভিজিত রায় ভারত সরকারের প্রতি এই দাবি তোলেন।
সোমবার রাতে নেতাজির পরিবারের আরেক সদস্য সূর্য কুমার বসু জার্মানি সফরে থাকা নরেন্দ্র মোদীর সাথে বার্লিনে দেখা করেন। এসময় তিনি একই দাবি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন বলে তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান।
এর আগে মনমোহন সিং সরকারের কাছে এই দাবি তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস দলের সংসদ সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়। তখন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল- কিছু বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে – এই আশঙ্কায় ওই গোপন নথিগুলি প্রকাশ করা যাবে না। এমনকি এই সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন দেশের সংসদেও ওঠানো যাবে না বলে চিঠিতে জানায় মনমোহন সিংয়ের সচিবালয়।
১৯৪৫ সালে তাইওয়ানের তাইহোকুতে একটি বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক কী না তা যাচাই করতে গত ছয় দশকে একাধিক তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে – যার মধ্যে প্রথম দুটি ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পক্ষেই মতামত দেয়।
তখন প্রশ্ন তোলা হয় ওই দুটি কমিশনের মতামত যদি সত্যিই হয়ে থাকবে, তাহলে তৃতীয় একটি কমিশন কেন গঠন করা হয়েছিল আর কেনই বা সর্বশেষ ওই কমিশনের প্রতিবেদন কোন কারণ না দেখিয়েই বাতিল করে ভারত সরকার।
নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচন করতে সর্বশেষ বিচারপতি মনোজ মুখার্জীর নেতৃত্বাধীন কমিশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। তাইহোকু বিমানবন্দরের সব নথি খতিয়ে দেখে তারা মতামত দেয় যে ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট সেখানে কোন বিমান দুর্ঘটনাই ঘটে নি। কোনও কারণ না দেখিয়েই এই তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল ভারত সরকার। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও বিবিসি
