সিটি নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে নীরব বিপ্লব ঘটাতে হবে: খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৫, ০১:২৬

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সিটি নির্বাচনে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবে। মানুষ এ সরকারের হাত থেকে রেহাই পেতে চায়। সিটি নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নীরব বিপ্লব ঘটাতে হবে। এই সরকার নিজেরা নির্বাচিত নয়। তারা আইন লঙ্ঘন করে সব কিছু করছে। আর আমাদের পদে পদে বাধার সৃষ্টি করছে। আমাদের সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জালেম সরকারকে দেখিয়ে দেবেন।

গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সাংস্কৃতিক অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত নববর্ষের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে নয়া পল্টনে পৌঁছে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর। বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক গাজী মাযহারুল আনোয়ার, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক মনির খানসহ সংগঠনটির নেতারা ফুল দিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। রাস্তার ওপর একটি চেয়ারে বসেন খালেদা জিয়া। মঞ্চ করতে না পারায় কার্যালয়ের নিচতলার খোলা কক্ষটিতে মঞ্চের মতো ব্যবহার করেন শিল্পীরা। দুপুরের পর থেকে ওই এলাকায় জমায়েত হন নেতা-কর্মীরা। খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। খালেদা জিয়া মির্জা আব্বাসের প্রতীক ‘মগ’, তাবিথ আউয়ালের প্রতীক ‘বাস’এবং চট্টগ্রাম সিটির বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমের ‘কমলালেবু’প্রতীকের পরিচয় করিয়ে তাদের জন্য নগরবাসির কাছে ভোট ও দোয়া চান। নেতা-কর্মীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে একপর্যায়ে সামনের রাস্তার দক্ষিণ পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ঐ সন্নিহিত এলাকায় যানজট তৈরি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘অবৈধ সরকার ভেবেছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। কিন্তু আমরা জানিয়ে দিতে চাই, আমাদের আন্দোলন জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে।’সিটি নির্বাচনের জন্য নয়। বরিশাল, গাজীপুর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ বেশির ভাগ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ওই সব নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে মানুষ পরিবর্তন চায়। ‘জালেম, খুনি সরকারকে’ দেখতে চায় না। ঢাকা সিটি করপোরেশনেও মানুষ পরিবর্তন আনবে। ‘সিটি কপোরেশন নির্বাচনগুলোতে প্রমাণিত হয়েছে দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। এই জালিম আওয়ামী লীগ সরকারকে আর তারা দেখতে চায় না। একই প্রমাণ এবার ঢাকা সিটি কপোরেশন নির্বাচনেও হবে।’তিনি বলেন, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা ঢাকায় নির্বাচিত হলে যানজট, গ্যাস, পানিসহ সব সমস্যা সমাধান করে ‘নোংরা’ঢাকাকে সব শ্রেণির মানুষের বাস উপযোগী করে তুলবে। মির্জা আব্বাসের পক্ষে ভোট চেয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মির্জা আব্বাস আগেও মেয়র ছিলেন। আবার ভোট দিয়ে তাঁকে সুযোগ দেবেন।’ তাবিথের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘তাবিথ বিদেশে পড়ালেখা করে এসেছেন। শিক্ষিত, ভালো ছেলে। তিনি নতুন নতুন “আইডিয়া” দিয়ে ঢাকাকে সুন্দর, বাসোপযোগী করে গড়ে তুলবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নববর্ষ দেশ ও জনগণের জন্য শুভদিন। এইদিন সবাই গান-বাজনা ও আনন্দ করবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু বর্তমান অবৈধ সরকার আমাদের অনুষ্ঠানে বাধা দিয়েছে ও অনুমতি দেয়নি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসের উপদেষ্টা আবদুল হালিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জমান রিপন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রো ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।