বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় নারীদের উপর যৌন হয়রানির ঘটনা তদন্ত করে আগামী ১৭ মে’র মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের আইজি ও ঢাবির ভিসিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। বর্ষবরণের দিন নারীর উপর যৌন হয়রানি ও লাঞ্জনার ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
চারটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন দুজন আইনজীবী। এসব প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ স্বত:প্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।
আদালত বলে, বাঙালি জাতিসত্ত্বার বড় সম্মিলন নববর্ষ উদযাপন। এতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই উদযাপন করে থাকে। আর সেই বর্ষবরণের দিন নারীরা লাঞ্জনার শিকার হলেন। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।
অন্তর্বর্তিকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ‘নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা ও দায়িত্বে অবহেলার’ দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ঢাবি ভিসি, ডিএমপি কমিশনার, পুলিশের রমনা জোনের ডিসি ও শাহবাগ থানার ওসিকে এ বিষয়ে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তিকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এছাড়া আগামী ১৭ মে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের ন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবকের সংঘবদ্ধ একটি দল নারীদের যৌন হয়রানি ও লাঞ্জিত করে। নারীদের রক্ষা ও তাদের পরিচালিত বর্বর ও ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বখাটেদের হামলায় আহত হন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছেন।
সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতে। তারা বলনে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের নিস্ক্রিয় ভূমিকার কারনেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
