‘হাসিনা :অ্যা ডটার্স টেল’ দেখে কাঁদলেন চট্টগ্রামের দর্শকরা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৪

চট্টগ্রামের বড় পর্দায় প্রদর্শিত হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের একটি হূদয়স্পর্শী চলচ্চিত্র ‘হাসিনা : অ্যা ডটার্স টেল’। সত্তর মিনিটের চলচ্চিত্রটি গতকাল সোমবার সকালে রুদ্ধবাক হয়ে দেখলেন চট্টগ্রামের সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও সুধীজন। দর্শকদের সবাই কাঁদলেন। কেউ কাঁদলেন প্রকাশ্যে; কেউ বা গভীর বেদনার চোখের জল লুকালেন।  সবাই ঘরে ফিরলেন ভেজাচোখে। সবাই বললেন— এইতো আমাদের শেখ হাসিনা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বাংলাদেশের ও বিশ্বের নন্দিতনেত্রী, যার জীবন শোক-কান্না-সংগ্রামের কঠিন দহনে এক হূদয়স্পর্শী মহাকাব্যে পরিণত হয়েছে। এ মহাকাব্য যারা নির্মাণ করলেন তাদেরও অভিনন্দন জানালেন দর্শকরা।

নগরীর ফিনলে স্কোয়ার সিলভার স্ক্রীন সিনেমা হলে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে। গতকাল চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেত্রী, আওয়ামী লীগের জননন্দিত নেতা মরহুম আতাউর রহমান   খান কায়সারের কন্যা, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খানের পৃষ্ঠপোষকতায়। এ উপলক্ষে সিলভার স্ক্রীনে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক পিপলু খান।

প্রদর্শনীর আগে ওয়াসিকা আয়শা খান ইত্তেফাককে জানালেন, চলচ্চিত্রটি একদল চলচ্চিত্রকর্মীর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল। শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সুদীর্ঘ সময়ের ত্যাগ-তিতিক্ষার এক জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে এতে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদীর্ঘ সংগ্রামী জীবন, তার উপর জেল-জুলুম নির্যাতন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ডাক, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার ঘটনা, ভাগ্যগুণে দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বেঁচে যাওয়া, দেশে-বিদেশে তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম আচরণসহ জননেত্রী শেখ হাসিনার শোকের নির্মম স্মৃতি নিয়ে কঠিন সংগ্রামের অনেক জানা-অজানা তথ্য চলচ্চিত্রটিতে স্থান পেয়েছে। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা এতে তাদের জবানিতে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অনেক মর্মস্পর্শী কথা তুলে ধরেছেন। চলচ্চিত্রটি তাই সকল প্রজন্মের মানুষের কাছে ইতিহাসের বার্তা তুলে ধরবে। যা বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে একটি মাইলস্টোন। এ ছাড়া নির্মাণ কুশলতার কারণে চলচ্চিত্রটি গতানুগতিক যে কোনো প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের সীমাকে অতিক্রম করে একটি হূদয়স্পর্শী ডক্যুড্রামায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির পরিচালক পিপলু খান ইত্তেফাককে জানালেন, ৫/৬ জনের একটি টিম নিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। ২০১৩ সালে শুরু করে শেষ করা গেছে ২০১৮ সালে। তিনি চলচ্চিত্র তৈরিতে সহযোগিতার জন্য শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চলচ্চিত্রটির সম্পাদনাসহ সবকিছু বাংলাদেশেই করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জননেত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যতম কান্ডারি বেগম মুজিবসহ সবার ভালোবাসার কথা চলচ্চিত্রটিতে রূপায়ন করা হয়েছে। যা দর্শকদের হূদয় স্পর্শ করলে সকল পরিশ্রম সার্থক হবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সময়ের দাবিতে। অন্যকিছুকে উপলক্ষ করে নয়। চলচ্চিত্রটির প্রতি দেশের সকল বয়সী দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহে তিনি অভিভূত বলেও জানান। চলচ্চিত্রায়নে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, টুঙ্গিপাড়া, নদী, বৃষ্টি, সবুজ প্রকৃতির নানারূপ, দেশের বাইরের বিভিন্ন ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক স্পট, ফুটেজ আনা হয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্থিরচিত্র চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপান্তর করে তুলে ধরা হয়েছে।

দর্শকরা জানান, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য বেগম মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল— এ পরিবারের পুত্রবধূদ্বয় এবং ১৫ আগস্টে ঘাতকদের হাতে নিহত সকল শহীদের নানা স্মৃতিচিহ্ন দৃশ্যকাব্যে উপস্থাপিত হয়েছে। এ হাহাকার যেনো বাংলার আকাশ-বাতাসকে আচ্ছন্ন করেছে। চলচ্চিত্রে সংযোজিত বঙ্গবন্ধুর প্রিয় গান ‘মা আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলই ফুরায়ে যায় মা’— এর করুণ অনুরণন ছবিটি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ দর্শকদের হূদয়ে ধ্বনিত হতে থাকে।

চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন সাদিক আহমেদ, সম্পাদনায় নবনীতা সেন, সংগীত সংযোজনায় দেবজ্যোতি মিশ্র।