গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বৈশাখী মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংর্ঘষে আবু তালেব (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দ্রপুর গুচ্ছগ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তিনদিনব্যাপী দফায় দফায় এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছে।
নিহত আবু তালেব উপজেলার ইদিলপুর ইনিয়নের চকনদী গ্রামের পঁচা মাহমুদ কবিরাজের ছেলে।
আহতদের মধ্যে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে লিখন মিয়াকে (১১) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একই গ্রামের চেংটু মিয়ার ছেলে আজাদুল (২২), ইসমাইল হোসেনের ছেলে আশরাফুল (২৫), তোফা মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (১৬), ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের সফু মিয়া (৪০), সিরাজুল ইসলাম (৩২) শাহাবুল হোসেন (২৮) ও বকুমিয়া (২০) আয়নাল মিয়ার ছেলে আল আমিন (১৪) সহ বাকীদের কে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে জানান, সংর্ঘষে সময় লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলে আবু তালেব মারা যান। এ সময় সংঘর্ষে দুই ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েত করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসানুর রহমান ও ধাপেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, ঢাক ঢোল পিটিয়ে রাঘবেন্দ্রপুর গুচ্ছ গ্রামে শুক্রবার বৈশাখী মেলার আয়োজন করে ওই এলাকার ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মাদসহ কতিপয় যুবক। এ মেলায় ১০/১২ বছরের কতিপয় শিশু-কিশোর তাস দিয়ে 'চুক চুকি' নামক একটি জুয়া খেলা বসায়। রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোর ও যুবকের ওই জুয়া খেলায় টাকা খোয়া যায়। তারা টাকা খোয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে মেলা সংলগ্ন ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ওই জুয়া আয়োজনকারী শিশু-কিশোরদেরকে মারপিট করে। পরবর্তীতে ওই বিষয়টি দুই গ্রামবাসীর মধ্যে তা ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে দুই গ্রামবাসী সংর্ঘষে জড়িয়ে পরলে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। এ সময় মেলার আয়োজক ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মাদকে আটক করে লাঞ্চিত করে এলাকাবাসী। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ ঘটনার জের ধরে শনিবার ১০টার দিকে রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আয়নাল মিয়ার ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আল আমিন তিলকপাড়ায় অবস্থিত তফেজান নেছা দাখিল মাদ্রাসায় ক্লাস করতে এলে তাকে আটক করে মারপিট করে তিলকপাড়ার কতিপয় যুবক। খবর পেয়ে ধাপেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে।
ধাপেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন আরো জানান, ওই ঘটনার জের ধরে ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দ্রপুর, কাঠাল লক্ষীপুর ও চকনদী গ্রামের লোকজন লাঠি, বল্লম দা কুড়াল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রবিবার সকাল ৯ টার দিকে তিলকপাড়া গ্রামে হামলা চালায়। এতে দুই ইউনিয়নের মধ্যে সংর্ঘষ ছড়িয়ে পরে।
উল্লেখ্য, বাংলা বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব অনেক আগেই শেষ হলেও সেই উৎসবের দোহায় দিয়ে মেলার নামে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে উপজেলার গ্রাম গঞ্জে একাধিক স্থানে প্রতিদিন চলছে এরকম জমজমাট জুয়া খেলা। ওই সব মেলার জুয়া খেলায় এখন শিশু-কিশোররা আসক্ত হয়ে পরছে।
