উপ-সচিবদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করেছে ইসি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৫, ০১:০৬

ডিসিসি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এবার উপ-সচিবদের (ডিএস) প্রিসাইডিং অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া নিয়ে প্রশাসনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এর আগে পোলিং অফিসার পদে পিয়ন ও দারোয়ান নিয়োগ দেয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে তা বাতিল করা হয়।

 
গতকাল রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিবদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অনেকেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র
সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে কথা বলে এর নিরসন করা হবে। তিনি বলেন, উপসচিবদের একটি তালিকা করা হয়েছে যাদের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে পারে। তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসাবে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বা এরকম পদমর্যদার কর্মকর্তাকে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের প্রথা রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার হিসাবে ডিসি বা উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সেখানে কিভাবে উপসচিবদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে তা নিয়ে কথা হবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে।
 
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ সহযোগিতা করে থাকে। এজন্য নির্বাচন পরিচালনার কাজে প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে কর্মকর্তার তালিকা চেয়ে পাঠায়। সেখান থেকে কমিশন সচিবালয় তাদের পছন্দমত কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দিয়ে থাকে। সহকারী কমিশনার সহকারী সচিব, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব পদধারীরা (প্রশাসন ক্যাডারের) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন। তাদের কোন পর্যায়ে নিয়োগ-বদলি, প্রেষণ ক্ষমতা একমাত্র এই মন্ত্রণালয়ের।
 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে কোন কর্মকর্তার তালিকা চায়নি এখনো। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মহিবুল হক এ কথা স্বীকারও করেছেন। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাছে কর্মকর্তাদের নাম চেয়েছিল কমিশন সচিবালয়। সেইসব তালিকা থেকে পছন্দমত কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দিচ্ছে কমিশন সচিবালয়। ইতিমধ্যে ৮ জন উপসচিবকে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদেরকে আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের উপযুক্ততার তালিকা করে রেখেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, কিছু ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করা হবে।