পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। তার মাধ্যমে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাকে থামিয়ে যুদ্ধের বিপরীতে শান্তি ফিরে আসতে পারে। এই শান্তিকে স্বাগত জানাবে এশিয়াসহ সারা বিশ্ব। তিনি হতে পারেন অভিনন্দিত। পাকিস্তান শান্তির জন্য পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছে। আর ভারত কূটনৈতিক যুদ্ধে জয়ের দাবি করেছে।
পাইলটকে ঘিরে শান্তির আশা
নিজের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ায় জীবন বাঁচাতে প্যারাসুটের মাধ্যমে মাটিতে অবতরণ করেছিলেন অভিনন্দন বর্তমান। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেটি ছিল শত্রু দেশের মাটি। তিনি না বুঝে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাও করেছিলেন তিনি কোথায় নেমেছেন। জবাব ছিল পাকিস্তানে। তিনি আঁতকে উঠেছিলেন। ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। একটি গর্তে পড়ে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন। পরে তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারত প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে জানায়, তাদের একজন পাইলট নিখোঁজ। তাকে নিরাপদে হস্তান্তরের দাবি জানায় নয়াদিল্লি। সাড়া দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানান। তিনি জানান, শান্তির জন্যই এই পদক্ষেপ। তার সিদ্ধান্তে দেশের মানুষ খুশি। তবে ভারতের দাবি, এর মাধ্যমে তাদের কূটনৈতিক যুদ্ধে জয় হয়েছে।
প্রভাবশালী মার্কিন মিডিয়া ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী পাইলট অভিনন্দনকে ঘিরে শান্তি উঁকি দিচ্ছে। তিনিই দুই পরমাণু অস্ত্রধর দেশের মধ্যে সামপ্রতিক সামরিক উত্তেজনা দূর করতে পারেন। তার প্রতি যেমন পাকিস্তান সদয় হয়েছে, তেমনি সদয় হতে পারে ভারতও। তিনি দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি যখন ধরা পড়েছিলেন তখন কিছু কাগজ গিলে ফেলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কাগজে এমন কিছু লেখা ছিল যা পাকিস্তানের হাতে পড়লে দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারতো। এমনকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে বিমান হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসা করলেও তিনি কিছুই বলেননি। তার বাবা সিমহাকুতি বর্তমান বলেছেন, এটাই সত্যিকারের সেনার কাজ। আর দেশের মানুষের কাছে অভিনন্দন রীতিমতো ‘বীর’ উপাধি পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রতি ভারতবাসী কতটা সন্তুষ্ট তা বোঝা যায় তাকে হস্তান্তরের সময় হাজার হাজার মানুষের সীমান্তে উপস্থিতি। গতকাল সকাল থেকে পাঞ্জাবের ওয়াঘাহ সীমান্তে মানুষের ভিড় জমে যায়। বেশিরভাগ মানুষের হাতেই ছিল ভালবাসার ফুল।
অভিনন্দনকে ধরার কিছুক্ষণ পরই তার রক্তাক্ত ছবি সামনে আসায় উদ্বিগ্ন হয়েছিল ভারতসহ বিশ্ব। তবে পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে অভিনন্দনকে বলতে শোনা যায়, তিনি ভাল ব্যবহার পেয়েছেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্তাদের ব্যবহারে তিনি খুশি। অভিনন্দনকে ভালভাবে রাখার কথা পাকিস্তান সরকারও জানায় বিভিন্ন সময়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিনন্দনের মুক্তি দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বৃহস্পতিবার ইমরান খানের ঘোষণার পরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আগের চেয়ে কমেছে। তবে সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের কর্মকান্ডই শান্তি আর অশান্তির বিষয়টি নিরূপন করে দেবে।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম নয়, ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের সময়ও ভারতের পাইলট কাম্বামপাতি নচিকেতা পাকিস্তানের হাতে আটক হয়েছিলেন। ৮ দিন পর তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। নচিকেতা জানিয়েছেন, কর্তব্যরত অবস্থায় যুদ্ধবন্দি হিসেবে ধরা হয়েছে অভিনন্দনকে। জেনেভা সম্মেলনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের দায়িত্ব তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা এবং সুস্থভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া। একইসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি জানিয়েছেন, আসলে কী ব্যবহার করা হয়েছে তা জানা যাবে ও দেশে ফেরার পর। তথ্যসূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট ও এনডিটিভি
