সোয়া ৯ লাখ ভোটের মধ্যে একাই প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ভোট পেয়েছেন বিজয়ী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো : আতিকুল ইসলাম।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে গত বৃহস্পতিবার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি জোটের পাশাপাশি বামপন্থি দলগুলোও এই নির্বাচন বর্জন করায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম।
ভোট শেষে রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। মোট ১২৯৫ কেন্দ্রের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এই সিটির ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে নয় লাখ ৪২ হাজার ৫৩৯টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১৯ হাজার ৫১৩টি, বৈধ ভোটের সংখ্যা নয় লাখ ২৩ হাজার ২৬টি। বৈধ ভোটের মধ্যে নৌকার প্রার্থী আতিক পেয়েছেন ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি-জাপার শাফিন আহমেদ পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। মেয়র পদে অপর তিন প্রার্থী এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম) ৮ হাজার ৬৯৫, পিডিপির শাহীন খান (বাঘ) ৮ হাজার ৫৬০ এবং স্বতন্ত্র আব্দুর রহিম (টেবিল ঘড়ি) ১৪ হাজার ৪০ ভোট পেয়েছেন। তবে ঘোষিত ফলাফলে ভোটের হার হয়েছে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ।
উত্তরের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটির ১৮টি করে মোট ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও ভোট হয় এদিন। পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে হয় উপ-নির্বাচন।
৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা
ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৮টি করে মোট ৩৬টি সমপ্রসারিত ওয়ার্ডে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (১মার্চ) দুপুরে মহানগর নাট্যমঞ্চে ডিএসসিসির ১৮ ওয়ার্ডে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল। এদিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থাপিত ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে শুক্রবার (১ মার্চ) দুপুরে ডিএনসিসি’র ১৮ ওয়ার্ডে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম।
দক্ষিণ সিটিতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা
৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুর রহমান, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে আকাশ কুমার ভৌমিক, ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আনোয়ার হোসেন মজুমদার, ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জুম্মন মিয়া, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মোস্তাক আহমেদ, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল ইসলাম খান, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদুর রহমান মোল্লা, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে শামসুদ্দিন ভূঁইয়া।
৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে নূরুদ্দিন মিয়া, ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. ইব্রাহীম, ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদুল হাসান, ৬৯নং ওয়ার্ডে মো. হাবিবুর রহমান হাসু, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে আতিকুর রহমান, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. খায়রুজ্জামান, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল আলম শামীম, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল ইসলাম, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আবুল কালাম আজাদ, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দ মো. তোফাজ্জল হোসেন।
সংরক্ষিত আসনে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে নাসরিন আহমেদ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিনা খান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে হোসনে আরা শাহীন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মনিরা চৌধুরী, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোসাম্মত্ ফুলবানু পলি, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুলতানা আহমেদ। ডিএসসিসিতে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ১৪৯ জন। ছয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ২৫ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির সমপ্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ভোটকেন্দ্র ২৩৫টি এবং ভোটকক্ষ ১ হাজার ২৫২টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ জন।
উত্তর সিটিতে কাউন্সিলর নির্বাচিত যারা
৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ সেলিম, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল ইসলাম, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম ঢালি, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল ইসলাম, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক আহম্মেদ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে হেলাল উদ্দিন, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম শফিক, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদীন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সাইদুর রহমান সরকার, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে মোতালেব মিয়া, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদুর রহমান দেওয়ান, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আনিছুর রহমান নাঈম, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে ডি এম শামীম, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শরীফুর রহমান, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. ফরিদ আহমেদ, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. নাসির উদ্দিন ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়া উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোসা. মাহফুজা ইসলাম, ১৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কামরুন নাহার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সোনিয়া সুলতানা রুনা, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইলোরা পারভীন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে জাকিয়া সুলতানা, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কমলা রানী মুক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। উত্তরের ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১৬ জন প্রার্থী আর সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৫ জন। ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটার ৫ লাখ ৯০ হাজার ৭০৫ জন। অন্যদিকে, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনও হয় বৃহস্পতিবার। এই পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ী হয়েছেন লাটিম প্রতীকের মাসুম গনি।
