নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় শিক্ষার্থী ভিসি নিয়োগ, রাজনীতি উম্মুক্তসহ বিভিন্ন দাবীতে মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে হঠাৎ করে ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর আবুল হোসেনের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেয়। রাত ৮ টায় এ সংবাদ প্রেরনের সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ভিসি (প্রো-ভিসি), প্রক্টর ও বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানরা অবরুদ্ধ ছিলেন। ঘটনার পর থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এবং শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আটকা পড়েন। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার সময় ক্যাম্পাস ত্যাগ করে তাদের গন্তব্যস্থলে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা জানান, হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র আবদুল হামিদ বাপ্পির নেতেৃত্ব বিকেল ৩টার দিকে কয়েকটি দাবীতে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। পরবর্তীতে কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রো-ভিসির কক্ষে তালা দিয়ে বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকেও তালা দেয়। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপ-উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তালা খুলে তাদেরকে ভিতরে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বেশ কিছুদিন ক্যাম্পাস ভালভাবে চলছিল। সাবেক ভিসির কিছু সমর্থক ও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে প্রভাবিত হয়ে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসকে উতপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আবদুল হামিদ বাপ্পির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রো-ভিসি আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন ধরেন প্রক্টর নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবী নিয়ে ভারপ্রাপ্ত ভিসির কক্ষে বৈঠক চলছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর মমিনুল হক রাত ৮ টার দিকে জানান ভারপ্রাপ্ত ভিসির কক্ষে তালা ঝুলছে, ভিসির কক্ষে তিনি ঢুকতে পারেননি।
