দরিদ্র রিকশাচালক আনিস, জীবিকার তাগিদে বৃষ্টির দিনেও তার একমাত্র সম্বল রিকশাটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন রাস্তায়। মানিকগঞ্জ বাজার থেকে ৩০ টাকা ভাড়ায় যাচ্ছিলেন হিজুলী বাজারে। অনেক কষ্টে কাদার ভেতরে যাত্রী এবং মালামাল নিয়ে রিকশা টেনে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাত্ গর্তে চাকা আটকে গিয়ে রিকশা উল্টে পড়ে যায়। পড়ে যান রিকশাচালক আনিস এবং মালামালসহ রিকশার যাত্রীও। কাদাপানিতে মাখামাখি হয়ে যান দুইজনে। আশেপাশের লোকজন এসে তাদের টেনে তোলেন। এরকম ঘটনা এলাকাবাসীর কাছে নতুন নয়। প্রায়ই এমন দৃশ্য দেখতে হয় তাদের।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শিববাড়ী- হিজুলী রাস্তাটির অবস্থা দীর্ঘদিন থেকেই খারাপ। এ রাস্তায় যানবাহন চলাচল প্রায় দুষ্কর হয়ে পড়েছে, এমনকি এতে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন। একটু বৃষ্টি হলেই পানি আর কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো সড়ক। মানিকগঞ্জ পৌরসভার অধীন খানাখন্দে ভরা এই সড়কটিতে এমনিতেই ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে আর বৃষ্টি হলে পানিতে নিমজ্জিত রাস্তার গর্তগুলো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার পরিমাণও বেড়ে যায়। গ্রাম থেকে শহরে, স্কুল-কলেজ এবং ডায়বেটিক হাসপাতালে যেতে হলে এ রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। শহরে যেতে অন্তত দশটি গ্রামের মানুষকে এ রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। পৌরসভার হিজুলী এলাকায় ডায়বেটিক হাসপাতাল, মাদ্রাসা, হিজুলী বাজার, হিমাগারসহ রয়েছে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
হিজুলী বাজারের দোকানদার হাসেম জানান, এ রাস্তায় প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক বছর ধরেই রাস্তার কোনো সংস্কার কাজ হয় না। মাটি বোঝাই বড় বড় ট্রাক নিয়মিত চলাচল করায় রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায় রাস্তাটিতে। গর্তে পড়ে কত হ্যালোবাইক, ভ্যান, রিকশা যে উল্টে পড়েছে তার হিসাব নেই। মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র আরশেদ আলী জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ৪৩ কোটি টাকার একটি ফান্ড পেয়েছি । দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
