প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত আর্মেনীয়দের স্মরণ করল বিশ্বনেতারা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৮:৩৯
 
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আর্মেনীয়দের ওপর অটোম্যান তুর্কীদের 'গণহত্যার' শতবর্ষ উপলক্ষে শুক্রবার দেশটির রাজধানীতে কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্ব নেতারা অংশ নেন।
 
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোম্যানদের হাতে নিহত প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয়কে স্মরণ করেন নেতারা। এসময় নেতৃবৃন্দ হাজার হাজার লোক শোভাযাত্রা সহকারে রাজধানী ইয়েরেভানের উপকণ্ঠে একাটি পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত একটি স্মৃতিস্তম্ভে যান। তারা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
 
এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলায় এর তীব্র বিরোধিতা করেছে তুরস্ক। এ নিয়ে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে।
 
তুরস্কের দাবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শুধু আর্মেনীয় নয় বরং উভয় পক্ষেই বহু লোক নিহত হয়। শুক্রবার তুরস্কেও এক স্মরণসভা হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু বলেছেন, তার দেশ আর্মেনীয়দের ‘কষ্ট ভাগ’ করে নেবে। তবে ওই হত্যাকাণ্ড গণহত্যা নয় এমন দাবির পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যাক্ত করেন তিনি।
 
চলতি মাসের শুরুতে পোপ ফ্রান্সিস গণহত্যা শব্দটি ব্যবহার এবং সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক প্রার্থনা সভায় ওই হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করার পর ভ্যাটিকানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় তুরস্ক।
 
ফ্রান্স ওই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে কাজ করছে। আর দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ গণহত্যা অস্বীকারকারীদের শাস্তি দিতে আইন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই বিষয় ফ্রান্স-তুরস্ক সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে।
 
বৃহস্পতিবার আর্মেনীয় গির্জা জানায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৫ লাখ আর্মেনীয় নিহত হয়। স্মরণ অনুষ্ঠানের পর সারাবিশ্বে আর্মেনীয় গির্জায় একযোগে ঘণ্টা বাজানো হয়। সূত্র: এএফপি