মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা ন্যাটো

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৫, ১২:১৯
 
মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এখন স্পষ্ট। সিরিয়ায় আগুন জ্বলছে, লিবিয়ায় টালমাটাল অবস্থার মধ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। ৪০ হাজার চৌকস সেনা নিয়ে বিশেষ রেসপন্স ফোর্স ‘আপতকালীন বাহিনী’ গঠন করতে যাচ্ছে আরব লীগ। পর্যবেক্ষদের ধারণা, এই যুদ্ধ কেবল ইয়েমেন নিয়ে নয় বরং এটি ইরানের আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠা রুখতে সম্মিলিত আরব প্রচেষ্টা। আরব লীগের আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। বাহিনীটি গঠিত হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। অনেকে একে দেখছেন ‘আরব ন্যাটো’ হিসেবে। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো ফোর্সের আদলে এটিকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় আরব লীগ।
 
এই বাহিনীতে বেশি থাকবে মিসর, জর্ডান, মরক্কো, সৌদি আরব ও সুদানের সৈন্যরা। এছাড়া আরো কিছু উপসাগরীয় দেশের সৈন্য থাকবে। এর ঘাঁটি হবে মিসরে। নিয়ন্ত্রণ থাকবে একজন সৌদি জেনারেলের হাতে। এর একটি স্থায়ী কমান্ড স্ট্রাকচার থাকবে। বহুজাতিক সৈন্যের স্থায়ী সৈন্যদলটি গঠন করা হবে যেন এটি জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে পারে। ঠিক যেমন আরব বহুজাতিক বাহিনী এখন ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। জানা গেছে, বহুজাতিক বাহিনীতে ৫শ’ থেকে ১ হাজার থাকবে বিমান বাহিনীর সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং স্থল সৈন্য থাকবে ৩৫ হাজারের কাছাকাছি। ন্যাটো সামরিক কাঠামোর মতো আরব বাহিনীটিরও থাকছে বিমান, নৌ ও স্থল সেনা। প্রত্যেক দেশ নিজ নিজ সৈন্যের ব্যয় নির্বাহ করবে। পুরো বাহিনীর ব্যয় নির্বাহের দায়িত্বে থাকবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি। আরব দেশগুলোর এ ধরনের বাহিনী গঠনের বিষয়টি একেবারে নতুন কোন ধারণা নয়। এর আগে ১৯৬০-এর দশকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং বিশ শতকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করেছে।
 
মোটা দাগে দেখলে ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের একটি প্রক্সি যুদ্ধ। ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননের পর ইয়েমেন হয়ে উঠেছিল ইরানের পরবর্তী প্রভাব বিস্তার কেন্দ্র। কেবল প্রভাব বিস্তারই নয়, আরব উপদ্বীপ জুড়ে সামরিক ক্ষমতার বিস্তার করতে শুরু করে ইরান। স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ঠেকাতে মরিয়া আরব দেশগুলো। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে একটি রফা হওয়ার পর (যদি চূড়ান্ত এখনো হয়নি) ইরানের আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠাকে সময়ের ব্যাপার বলে ভেবে থাকতে পারে আরা দেশগুলো। কারণ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দিলেও কেবল নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিলে ইরানের অর্থনীতির চাকা আবার সচল হবে। যা আরব দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ইরানের উত্থান ঘটাতে পারে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
 
সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর যে জোট এখন ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সেই জোটকে তথ্য, গোয়েন্দা সূত্র ও আকাশে জ্বালানি গ্রহণের প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বর্তমান জোটবদ্ধ লড়াই ভবিষ্যতে এ ধরনের একটি বহুজাতিক বাহিনী গড়ার পটভূমি তৈরি করেছে। এই জোট ভবিষ্যতে টিকে থাকতে পারবে কি না সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে এর সম্পর্কটা কি রকম হবে, ভবিষ্যতে দেশটি সঙ্গে জোটের কোন দ্বন্দ্ব বেঁধে গেলে তখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে কি না সেটি এর স্থায়িত্বে অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলতে পারে বলে মনে হয়।
 
সূত্র: ফরেন পলিসি