গোখাদ্যের নামে চাল আমদানি!

আপডেট : ০১ মে ২০১৫, ০১:২২

গোখাদ্যের নামে ভারত হতে ঢালাওভাবে চাল আমদানির অভিযোগ করেছেন চাতাল ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবী, এ কারণে দেশিয় ধান ও চালের দাম কমে গেছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে ঈশ্বরদীর ছয় শতাধিক ধানের চাতাল ও হাসকিং মিলের (ক্ষুদ্র শিল্প) ৮০ ভাগই প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম বলে খ্যাত ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামে স্থবিরতা বিরাজ করছে। সেখানে কেনা-বেচা নেই বললেই চলে।

 
স্থানীয় চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ধানের বাজার গত দুই মাস ধরে ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় এক গাড়ি ধান ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী বা চাতাল মালিকদের ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ব্যবসায়ী সাদেক বিশ্বাস জানান, লোকসানের আশঙ্কায় কেউই ঝুঁকি নিয়ে ধান ভাঙাতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ঈশ্বরদীর চালের মোকামে কর্মরত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এসব শ্রমিকের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী বলে জানা গেছে। গত বুধবার সরেজমিনে জয়নগর এলাকায় গিয়ে চাতাল মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের  সাথে কথা বলে জানা যায়, হরতাল-অবরোধ ও পরিবহন সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন এই মোকামে চাল বিক্রি হয়নি। এর মাঝে ভারত হতে চাল আমদানি করে বাজার সয়লাব করা হয়েছে। আমন মৌসুমের ধান এখনও কৃষক ও চাতাল মালিকদের গুদামে মজুদ রয়েছে। এই অবস্থায় ভারত হতে গোখাদ্যের নামে কম দামে চাল আমদানি করায় দেশিয় ধান ও চালের দাম ব্যাপক হারে কমে গেছে।
 
চাল আমদানির বিষয়ে ঈশ্বরদীর চাতাল ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির নেতারা জানান, তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সরকারের খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে খাতা-কলমে চাল আমদানির কোন তথ্য নেই। তবে পশু খাদ্যের নামে ভারত হতে চাল আমদানি করায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের কৃষক, হাসকিং (ক্ষুদ্র শিল্প) মিল মালিক, ধান-চাল ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনা করে অবৈধ পন্থায় চাল আমদানির বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। চাল আমদানির উপর করারোপ করারও দাবী জানিয়েছেন তারা।
 

জানা গেছে, বর্তমানে ঈশ্বরদীতে গুটি স্বর্ণা ধান ৭০০-৭৫০ থেকে ৫৯৫-৬০০ টাকা, সুমন স্বর্ণা ৭১৫-৭২০ থেকে ৬০০-৬২৫ টাকা, ব্রি-৪৯ ধান ৮০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, ব্রি-৩৯ ধান ৮০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, পারিজা ধান ৭০০-৭৫০ টাকা থেকে ৪৫০-৫০০ টাকায় নেমে নেমেছে। মিনিকেট ধানের বাজার গত মৌসুমের শুরুতে ৯০০ টাকা মণ থাকলেও এই ধান বর্তমানে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। এই অবস্থা বিরাজ করলে ধানের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমে আসবে। এতে কৃষক ও চাতাল ব্যবসায়ীরা চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।