পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের প্রয়োজন মিটাতে দেশে স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে। রাজনীতিকে হানাহানি-সংঘাত থেকে মুক্ত রেখে সরকার পরিবর্তনের পথ হিসাবে ভোটের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা গেলেই টেকসই সরকার ব্যবস্থা বজায় থাকে। মানুষের চাহিদা হচ্ছে চলমান বিষয়, যা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং সুদূর ভবিষ্যতেও থাকবে। আর এই চাহিদা পূরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি গতকাল শনিবার ও গত শুক্রবার পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় একাধিক সমাবেশ ও সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। গতকাল ভাণ্ডারিয়া উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটি এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি বলেন, আমাদের চাহিদা নিরূপণ করে তা পূরণের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি কাজের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতাকে দূর করে উন্নয়ন কাজ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বর্জন করা না গেলে গৃহীত সরকারি কর্মসূচি যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। সরকারি কাজের নিয়ম-নীতি রক্ষা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও কার্যপদ্ধতির বাইরে চলা যাবে না।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে সরকার আসবে, সরকার যাবে কিন্তু মানুষের কল্যাণে কাজ করার ধারা বন্ধ করা যাবে না। আমরা সকলেই বাংলাদেশের মানুষ, দেশকে ভালবাসা আমাদের কর্তব্য। এসব সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত ইউএনও শহীদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহদাত হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বৃন্দসহ উপজেলা কর্মকর্তাগণ। এ সব সভায় মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। তিনি এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শুক্রবার রাতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সিংহখালীতে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এখানে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ বছর আগে আমি নৌকায় চড়ে এই দুর্গম গ্রামে প্রথম আসি, এখন গাড়ি চড়ে এসেছি। এ অগ্রগতি যেমন ভান্ডারিয়ায় ঘটেছে তেমনি দক্ষিণাঞ্চল তথা সমগ্র বাংলাদেশেই সাধিত হচ্ছে। সেই সময় মানুষ রাস্তা-ঘাট চাইতো। এখন বিদ্যুত্ চায়, স্লুইস গেট চায়। এটাই হচ্ছে উন্নয়ন চাহিদার ধারাবাহিকতা। আর মানুষের এই চাহিদা মিটাতে প্রয়োজন দেশে কাজ করার নিরবচ্ছিন্ন ও উপযুক্ত পরিবেশ।
তিনি বলেন, দেশ ও মানুষের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। আগে আমাদের কণ্ঠস্বর দুর্বল ছিল। এখন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ অনেক সোচ্চার তাদের প্রয়োজন মেটাতে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এই রূপকল্পের সাথে আমাদের অঞ্চলের মানুষেরও একাত্ম হয়ে অগ্রসর হওয়া দরকার।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুত্, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে বড় বড় অবকাঠামোগত অগ্রগতি ঘটছে। এখানে বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র, সেনানিবাস, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বন্দর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এখন অগ্রাধিকার নিরূপণ করে ছোট ছোট কাজ করতে হবে। আমাদের বুদ্ধি, বিবেচনা বোধ, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন প্রয়োজন। অধিকার আদায়ের জন্য দলমত রাজনৈতিক চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। রাজনীতি থাকবে, মত পার্থক্য থাকবে কিন্তু জাতীয় স্বার্থে তা কাজের ক্ষেত্রে কোন বিভাজন সৃষ্টি করবে না। ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল মতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, সামরিক সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ অনেক সরকার অতীতে আমরা দেখেছি। কিন্তু কোন সরকারই নির্বাচন তথা ভোটের ব্যবস্থা নস্যাত্ করে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারে নি। জনগণের অধিকার রক্ষায় ভোটের কোন বিকল্প নাই।
স্থানীয় এবিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পার্টির (জেপি) মতবিনিময় সভায় ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ বাবুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ইকড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, সাদেকুল ইসলাম পিন্টু ও অসীম মন্ডল।
এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম পোদ্দার, যুব সংহতির উপজেলা আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান রাজু মল্লিক, সদস্য সচিব মনির হোসেন সরদার, ছাত্র সমাজের উপজেলা আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম শিমুল আকন, সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার প্রমুখ।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী শুক্রবার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানা ইকোপার্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। ভাণ্ডারিয়া বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিম জোমাদ্দার, জালাল উদ্দীন সিকদার, খন্দকার আব্দুস সালাম, আলমগীর হোসেন কবিরাজ, শহীদুল আলম খোকন বেপারী প্রমুখ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন। ব্যবসায়ীরা ভান্ডারিয়া বাজারের উন্নয়নকল্পে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানান।
‘আল্লাহ্তালা ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন’
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আল্লাহ্তালা ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের পছন্দ করেন। আল্লাহ্তালা বিপদ-আপদ দিয়ে মানুষের ইমান পরীক্ষা করেন। সীমা লঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ্তালা পছন্দ করেন না। আমাদের প্রত্যেককেই একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলা উচিত। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া বন্দর তাফসীর ময়দানে ইসলামী সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ৬১তম তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের শেষ দিনে দোয়া ও আখেরি মোনাজাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, আল্লাহ্তালা কারো হক নষ্ট করা পছন্দ করেন না। আমাদের প্রত্যেককেই ইমানের জোর রাখতে হবে এবং সত্ জীবন যাপনের জন্য পরিশ্রম করতে হবে। কারণ সব কিছু দেয়ার মালিক আল্লাহ্। তাই যা কিছু চাওয়ার তার কাছে চাইতে হবে। বর্তমানে দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো। তবে অন্যান্য কারণে একটি অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ বছর আগে যে ভাণ্ডারিয়া ছিল তখনকার চেয়ে এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমি কখনও রাজনৈতিক আলোচনা করিনি, সব সময়ই উন্নয়নের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। ঝগড়া-ফ্যাসাদ হানাহানি না করে সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও বাকি কাজ করা সম্ভব হবে। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আহ্বায়ক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহাদাত্ হোসেন, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান টুলু, নদমুলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল কবির বাবুল তালুকদার, ভিটাবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান মৃধা, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভির হোসেন বাবু তালুকদার, সমাজ সেবক মো. ইউসুফ আলী আকান, মো. আবুল কালাম পোদ্দার প্রমুখ। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা খুরশীদ আলম কাশেমী।
বরিশাল অফিস জানায়, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শনিবার ভাণ্ডারিয়া থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে বরিশালে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে অংশ নেন। যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন সুলতানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টি (জেপি) আহবায়ক ডা. মনিরুজ্জামান মনির, সদস্য সচিব শেখ রফিকুল ইসলাম টুকু ও যুব সংহতি নেতা মর্তুজা জুয়েলসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে সেখানে মহানগর জেপি ও যুব সংহতিসহ বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সন্ধ্যায় জেপি চেয়ারম্যান সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ত্যাগ করেন।