গাইবান্ধার সাঘাটায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ইরি ধানের জমি। এতে শতাধিক কৃষকের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একমাত্র ফসল ইরি ধানের উপর নির্ভরশীল এই এলাকার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন বিপাকে পড়েছে।
সরে জমিনে গিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে সাঘাটা উপজেলার নিম্নাঞ্চল ঘুড়িদহ ইউনিয়নের তেনাচিড়া নামক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কমলপুর, পচাবস্তা, ঘুড়িদহ, পবনতাইড় ও বাউলিয়া মৌজার শতাধিক একর জমির কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়।
কৃষকরা একমাত্র ফসল ইরিধানের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় গোয়ালের গরু, হাস-মুরগি বিক্রি করে, অনেকেই আবার দাদনের টাকা নিয়ে আবাদ করে থাকেন। এবার অসময়ে হঠাৎ করে প্রবল বর্ষণে কৃষকের জীবিকা নির্বাহের ভরসাটুকু কেড়ে নিয়েছে প্রকৃতি।
পবনতাইড় গ্রামের মুক্তি যোদ্ধা ও কৃষক নুরুল হোসেন আকন্দ জানান, ২০ জন ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যেককে সরকার কমলপুর মৌজায় ১ একর করে খাস জমি দিয়েছে। এই জমির ইরি ধানই আমাদের পরিবারের জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা । কিন্তু বৃষ্টির পানি আমাদের সকলের আহার এবার কেড়ে নিয়ে গেছে।
কমলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, এবার গরু, ছাগল বিক্রি করে ৭ বিঘা জমিতে ইরিধান চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমির জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। ধান পাকার আগেই বৃষ্টির পানিতে তার সব জমির ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
একই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানালেন, ঘুড়িদহ গ্রামের কৃষক হাবিজার, রবিউল, পচাবস্তা গ্রামের মেহের আলী, কমলপুর গ্রামের শহিদুলসহ অনেকেই।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার এ কে এম মুবিনুজ্জামান চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি কৃষকের ইরিধান তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ধান তলিয়ে নষ্ট হয়েছে শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করে সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আবেদন পাওয়া গেলে তাদের তালিকা প্রণয়ন করে সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
