চাঁদাবাজির জেরেই বাড্ডায় ক্লাবের ভেতর গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০৪ মে ২০১৫, ২০:৫৭
 
পশুরহাটের বকেয়া টাকা, ডিস ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় জাগরণী সংসদ ক্লাবের ভেতর গুলি করে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন রাহিনকে।
 
সোমবার মোফাজ্জলের লাশ ময়না তদন্ত শেষে বিকালে বাড্ডা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
 
এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবের ভেতর এলোপাতারি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় মোফাজ্জল ও মনু আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিত্সক মোফাজ্জলকে মৃত ঘোষনা করেন।
আহত মনু হসপিটালে চিকিত্সাধীন। হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বাড্ডায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এম এ জলিল জানান, নিহত মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। গত ৭/৮ মাস আগে দেলোয়ার নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে দোলোয়ারের স্ত্রী মোফাজ্জলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। ঐ মামলায় মোফাজ্জল আদালত থেকে জামিন নেন। মোফাজ্জল জাগরণী ক্লাবের একজন সদস্য। গত বছর আফতাব নগর পশুরহাট ঐ ক্লাবের নামে ইজারা নেয়া হয়। ইজারার এক কোটি টাকাও ক্লাবে জমা রয়েছে। ঐ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক মাস ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
 
ওসি আরো জানান, মোফাজ্জলসহ কয়েকজন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকায় ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে আসছিল। এসব এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করেছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যার  ঘটনায় বিকাল পর্যন্ত থানায় নিহতের পরিবারের কেউ মামলা করতে আসেনি বলে তিনি জানান।
 
জাগরণী ক্লাবের সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান সাত্তার বলেন, ক্লাবের কাছে প/১৩, দক্ষিণ বাড্ডায় মোফাজ্জলের বাড়ি। তার চাচাতো ভাই হাবিব উদ্দিন ছিলেন জাগরণী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ক্লাবের বাইরের বিষয় নিয়ে ক্লাবের ভিতর হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। এ কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তে পুলিশকে সহয়োগিতা করবে। 
 
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী বাড্ডা থানার এসআই ওবায়েদুল ইসলাম জানান, নিহতের মাথার পেছনে বাম কানের পাশে দু’টি ছিদ্র, মুখের ডান পাশে একটি, বুকের বাম পাশে এক ও বাম হাতের কব্জির ওপরে দুটি এবং পিঠের দুই পাশে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।